রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই সরকারি স্তরে আমূল পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন সরকারের কড়া নির্দেশে ইতিমধ্যেই একাধিক সরকারি পর্ষদ, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মনোনীত চেয়ারম্যান ও সদস্যরা পদত্যাগ করেছেন। সেই ধারায় মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও এসএসসির পর এবার পরিবর্তনের ধাক্কা লাগল উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদেও। বৃহস্পতিবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল সংসদের সচিব প্রিয়দর্শিনী মল্লিককে।
শিক্ষা দপ্তরের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রিয়দর্শিনী মল্লিককে সংসদের সচিব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। তিনি পুনরায় তাঁর পুরনো কর্মস্থল আশুতোষ কলেজের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে ফিরে যাবেন। উল্লেখ্য, প্রিয়দর্শিনী মল্লিক রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কন্যা। রেশন দুর্নীতি মামলায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম জড়ানোর পর থেকেই প্রিয়দর্শিনীর এই গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নিয়ে বিরোধী মহলে বারেবারে প্রশ্ন উঠেছিল।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্রী প্রিয়দর্শিনী মাইক্রোবায়োলজি ও ভাইরোলজির বিশেষজ্ঞ। তুলসী পাতা থেকে ভেষজ ওষুধ তৈরির গবেষণায় তাঁর বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আশুতোষ কলেজের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কাজ করার পর তিনি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব নিযুক্ত হন। তাঁর কার্যকালেই উচ্চমাধ্যমিকে ঐতিহাসিক ‘সেমেস্টার পদ্ধতি’ চালু হয়েছে। এছাড়াও সারা বছর পড়ুয়াদের জন্য বই নিশ্চিত করতে সংসদে একটি লাইব্রেরি তৈরি এবং পরীক্ষার দিনগুলিতে স্কুল পরিদর্শনে তাঁকে অত্যন্ত সক্রিয় থাকতে দেখা যেত।
বৃহস্পতিবার উচ্চমাধ্যমিকের চতুর্থ সেমেস্টারের ফলাফল ঘোষণার সময়ও তিনি সভাপতির পাশে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু রাত বাড়তেই প্রশাসনিক নির্দেশে তাঁর দায়িত্বের অবসান ঘটে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ার লক্ষ্যে নতুন সরকার মনোনীত সদস্যদের সরানোর যে নীতি নিয়েছে, এটি তারই অংশ। আপাতত সংসদীয় দায়িত্ব ছেড়ে প্রিয়দর্শিনী তাঁর গবেষণাগার ও অধ্যাপনার জগতেই ফিরে যাচ্ছেন।





