ইসলামী ব্যাংকের নয়া চেয়ারম্যানকে ঘিরে তুলকালাম ঢাকা! পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জে রণক্ষেত্র হেড অফিস

বাংলাদেশের আর্থিক খাতের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-র নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ঢাকার হেড অফিস চত্বর। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাক্তন ডেপুটি গভর্নর খুরশেদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরই গ্রাহকদের একাংশ রাস্তায় নেমে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশকে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস, জলকামান এমনকি সাউন্ড গ্রেনেডও ব্যবহার করতে হয়েছে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে খুরশেদ আলমকে নিয়োগ দেয়। তবে এই নিয়োগ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রাহকদের একটি বড় অংশের মধ্যে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে খুরশেদ আলম যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ছিলেন, তখন তিনি ব্যাংক থেকে বিশাল অঙ্কের টাকা পাচারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। বিক্ষোভকারীরা আরও দাবি করেন, খুরশেদ আলমের সঙ্গে এস. আলম গ্রুপের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। উল্লেখ্য, এই এস. আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে দেশের ব্যাংক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। গ্রাহকদের আশঙ্কা, এই নিয়োগের ফলে ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের একটি বিশেষায়িত বেসরকারি ব্যাংক যা ইসলামিক শরিয়া নীতি অনুসরণ করে পরিচালিত হয়। রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘকাল ধরেই ধারণা রয়েছে যে, এই ব্যাংকের ওপর রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর গভীর প্রভাব রয়েছে। এই অস্থিরতার পেছনেও জামায়াতপন্থী সমর্থকদের ইন্ধন থাকতে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ সন্দেহ করছে।
ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে পুলিশ অতর্কিতে আক্রমণ চালায়। জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে প্রথমে লাঠিচার্জ শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড এবং জলকামান ব্যবহার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই সংঘর্ষে একাধিক বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি অবস্থানে ঢাকা শহরের ওই গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
ব্যাংক খাতের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে যখন বাংলাদেশ কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই এমন একটি নিয়োগ বিতর্ক এবং তাকে কেন্দ্র করে হওয়া এই সংঘর্ষ অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গ্রাহকদের দাবি, বিতর্কিত কাউকে বসিয়ে ব্যাংকের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। অন্যদিকে, পুলিশি অভিযানের পরেও বিক্ষোভকারীরা তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। আগামী কয়েক ঘণ্টায় পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা দেশ।