নমিনি হলেও ভুল করবেন না! মৃত ব্যক্তির এটিএম থেকে টাকা তুললেই আইনি ফাঁদে পড়তে পারেন আপনি

বর্তমান সময়ে এটিএম কার্ড আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জরুরি প্রয়োজনে টাকা তোলার জন্য এটিএম কার্ডের বিকল্প নেই। কিন্তু অনেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দিক সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত। সাধারণত পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা তাঁদের সন্তানদের এটিএম কার্ড ও পিন নম্বর দিয়ে রাখেন জরুরি প্রয়োজনের জন্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই কার্ডধারী ব্যক্তির মৃত্যুর পর যদি সেই কার্ড ব্যবহার করে টাকা তোলা হয়, তবে তা গুরুতর আইনি অপরাধ বা ‘ক্রিমিনাল অফেন্স’ হিসেবে গণ্য হয়। এমনকি আপনি যদি ওই অ্যাকাউন্টের নমিনি বা আইনসম্মত উত্তরাধিকারীও হন, তবুও ব্যাঙ্ককে না জানিয়ে মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে এটিএম বা ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেন করা আইনত দণ্ডনীয়।

ব্যাঙ্কিং নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অ্যাকাউন্টধারীর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর অ্যাকাউন্ট আইনত নিষ্ক্রিয় (Inactive) হয়ে যায়। তাই মৃত্যুর পর ডেবিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং বা ইউপিআই ব্যবহারের আইনি অধিকার আর অবশিষ্ট থাকে না। অনেক নমিনিই ভুলবশত মনে করেন যে, যেহেতু তাঁদের নাম নথিবদ্ধ আছে, তাই তাঁরা সহজেই এটিএম থেকে টাকা তুলতে পারবেন। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। নমিনি হিসেবে টাকা পাওয়ার প্রক্রিয়াটি একটি আইনি ধাপ পার করে সম্পন্ন করতে হয়। এই প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে সরাসরি এটিএম থেকে টাকা তোলা প্রতারণা (Fraud) হিসেবে গণ্য হয়।

ব্যাঙ্কগুলি এই কঠোর নিয়ম অনুসরণ করে মৃত ব্যক্তির অর্থ সুরক্ষিত রাখতে। অনেক ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির একাধিক উত্তরাধিকারী থাকতে পারেন। কোনো একজন উত্তরাধিকারী যদি ব্যাঙ্কের অগোচরে এটিএম ব্যবহারের মাধ্যমে সমস্ত টাকা তুলে নেন, তবে তা অন্যদের অধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন। এ ধরনের কারচুপির ফলে অন্যান্য উত্তরাধিকারীরা যদি ব্যাঙ্কে বা থানায় অভিযোগ করেন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চুরির অভিযোগে এফআইআর দায়ের হতে পারে। প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতে হতে পারে, এমনকি কারাদণ্ডও অবধারিত।

পরিবারের কারো মৃত্যু হলে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক আইনি পথে এগোনোই বাঞ্ছনীয়। এটিএম কার্ড ব্যবহার না করে নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করুন:
প্রথমেই সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ককে লিখিতভাবে ওই ব্যক্তির মৃত্যুসংবাদ জানান। এরপর ব্যাঙ্ক থেকে নির্দিষ্ট ‘ক্লেম ফর্ম’ (Claim Form) সংগ্রহ করুন। মৃত ব্যক্তির মৃত্যু শংসাপত্র (Death Certificate), আপনার নিজের পরিচয়পত্র এবং নমিনি সংক্রান্ত নথি ব্যাঙ্কের কর্মকর্তাদের কাছে জমা দিন। ব্যাঙ্ক সমস্ত নথিপত্র যাচাই করে কয়েক দিনের মধ্যেই নিয়মমাফিক টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত করে দেবে। আইনি জটিলতা এড়াতে এই স্বচ্ছ পদ্ধতি অনুসরণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।