আমেরিকায় বহু প্রতীক্ষিত ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ পাস হওয়ার সাথে সাথেই মার্কিন রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেন টেসলা ও এক্স (সাবেক টুইটার) কর্তা ইলন মাস্ক। তাঁর একদা ‘পরম বন্ধু’ ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাশা পূরণ করে, এবার নিজেই রাজনৈতিক ময়দানে নামলেন বিশ্বের অন্যতম ধনী এই ব্যক্তি। তাঁর নবগঠিত রাজনৈতিক দলের নাম ‘দ্য আমেরিকা পার্টি’।
স্বাধীনতার ডাক দিয়ে ‘দ্য আমেরিকা পার্টি’র আত্মপ্রকাশ:
ইলন মাস্ক তাঁর এক্স হ্যান্ডলে (পূর্বে টুইটার) এক পোস্টে ঘোষণা করেছেন, “আমেরিকার মানুষকে তাদের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে আজ তৈরি করলাম দ্য আমেরিকা পার্টি।” এর আগেই তিনি এক্স হ্যান্ডলে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। একদিন আগেই মাস্ক নেটিজেনদের কাছে প্রশ্ন রেখেছিলেন যে, আমেরিকানরা বর্তমান দুই দলের ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট কিনা, নাকি একটি নতুন দল চান? সেই পোস্টে ৬৫.৪% মানুষ নতুন দল চেয়ে ভোট দিয়েছিলেন, যেখানে ৩৪.৬% আর কোনো দল চাননি। এই বিপুল জনসমর্থনই সম্ভবত মাস্ককে তাঁর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে সাহায্য করেছে।
নিজের দল ঘোষণার পোস্টের সঙ্গেই মাস্ক বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করে লিখেছেন, “অপচয় ও দুর্নীতির মাধ্যমে আমাদের দেশকে দেউলিয়া করা হচ্ছে। আমরা গণতান্ত্রিক নয়, একদলীয় ব্যবস্থার শাসনে বাস করছি।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ২০২৬ সালের নির্বাচনে অংশ নেবে ‘দ্য আমেরিকা পার্টি’
এক নেটিজেনের প্রশ্নের উত্তরে ইলন মাস্ক পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, কবে নাগাদ তিনি ভোটে লড়বেন। নেটিজেন জানতে চেয়েছিলেন, ‘২০২৬-এর মিড-টার্ম ভোটে নাকি ২০২৪-এর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে? কবে ভোটের ময়দানে দেখা যাবে এক্স কর্তাকে?’ উত্তরে মাস্ক জানিয়েছেন, “পরের বছরই ভোটে লড়বে আমেরিকা পার্টি।” অর্থাৎ, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনেই তাঁর নবগঠিত দল নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে চলেছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় ইনিংস শুরুর আগে থেকেই ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ নিয়ে জল্পনা ছিল। সে সময় ইলন মাস্ক এই বিলের সমর্থনে সরব হয়েছিলেন। আরও উল্লেখ্য, ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে টেসলা কর্তা ২৭৭ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছিলেন। এমনকি, ট্রাম্প প্রশাসনে নবনির্মিত ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি (DOGE) এর প্রধান হিসেবেও মাস্ক দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে, বিভাগটি বাজেট কমিয়ে এবং অপ্রয়োজনীয় এজেন্সিগুলির ব্যয় বাদ দিয়ে ১৯০ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করেছে বলে দাবি করা হয়। ট্রাম্পের ব্যয় বিল স্বাক্ষরের কয়েক সপ্তাহ আগে, গত মে মাসে তিনি DOGE থেকে পদত্যাগ করেন। এরপরই তাঁর নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের এই ঘোষণা মার্কিন রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।