ইরান যুদ্ধের গোপন তথ্য ফাঁস! খোদ পেন্টাগনে বড়সড় তদন্তে ৫০ মার্কিন সেনার পলিগ্রাফ টেস্ট

ইরানের সঙ্গে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং তীব্র সামরিক সংঘাতের আবহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরে এক অভাবনীয় ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘জয়েন্ট স্টাফ’-এর প্রায় ৫০ জন উচ্চপদস্থ কর্মী ও কর্মকর্তার ওপর আকস্মিক পলিগ্রাফ বা মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষা (লাই ডিটেক্টর টেস্ট) সম্পন্ন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর সাম্প্রতিক একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। মূলত সাংবাদিকদের কাছে মার্কিন সামরিক অভিযানের অতি সংবেদনশীল এবং গোপন তথ্য ফাঁসের ঘটনা তদন্ত করার অংশ হিসেবেই এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পেন্টাগন।

জানা গেছে, সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আমেরিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের ভাণ্ডারে যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে, সেই সংক্রান্ত অত্যন্ত গোপন ও অভ্যন্তরীণ বিবরণী ফাঁস হয়ে যায়। ওয়াশিংটনের কৌশলগত সামরিক পরিকল্পনার এমন সংবেদনশীল তথ্য বাইরে চলে আসার ঘটনায় মার্কিন প্রতিরক্ষা মহলে রীতিমতো হুলুস্থুল পড়ে গেছে। আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক গোপনীয়তা বজায় রাখার স্বার্থে এই ধরনের তথ্য ফাঁসকে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কে বা কারা এই অন্তর্ঘাতমূলক কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, তা খুঁজে বের করতেই পেন্টাগনের উচ্চপর্যায়ের তদন্তকারী দল এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান এই উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ উত্তেজনার সময় খোদ মার্কিন সামরিক সদর দপ্তরের অন্দরে এমন তথ্য ফাঁসের ঘটনা ওয়াশিংটনের কৌশলগত সক্ষমতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক অভিযানগুলোর ওপর চরম হুমকি বিরাজ করছে, ঠিক সেই সময়ে ঘরের ভেতরেই এই নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা বাইডেন বা ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার ওপর বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দোষীদের চিহ্নিত করতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধ করতে পেন্টাগন কর্তৃপক্ষ এখন আরও কঠোর নজরদারির নীতি গ্রহণ করেছে।