মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে ফের যুদ্ধের কালো মেঘ। ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা থিতিয়ে এলেও স্বস্তিতে নেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সরকার। একদিকে তেহরান যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ব্যস্ত, অন্যদিকে আমেরিকা ইরানকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরান কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে মার্কিন সামরিক অভিযান এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
মার্কিন রণকৌশল: ৬টি চাঞ্চল্যকর তথ্য ১. সমুদ্রে ঘেরাও: মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ তার বিশাল স্ট্রাইক ফোর্স নিয়ে মালাক্কা প্রণালীতে অবস্থান করছে। এটি সরাসরি ইরানকে চাপে রাখার রণকৌশল। ২. জর্ডানে যুদ্ধবিমান: জর্ডানের ঘাঁটিতে ১২টি শক্তিশালী মার্কিন F-15 যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইসরায়েল এই রুট ব্যবহার করেই ইরান আক্রমণ করেছিল। ৩. ডিয়েগো গার্সিয়া ফ্যাক্টর: ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে US-17 পরিবহন বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেখান থেকে পারস্য উপসাগরে ইরানের ওপর নজরদারি ও আক্রমণ চালানো সহজ হবে। ৪. ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক মেজাজ: প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত ড্যান শাপিরোর মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তার লক্ষ্য সরাসরি সর্বোচ্চ নেতা খামেনি। ৫. সরকার পরিবর্তনের ডাক: ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তিনি ইরানে নতুন নেতৃত্ব দেখতে চান। খামেনিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তিনি ইরানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। ৬. গণতন্ত্রের খসড়া: নির্বাসিত যুবরাজ রাজা পাহলভি ইতিমধ্যেই ইরানে পূর্ণ গণতন্ত্র এবং ধর্ম থেকে রাষ্ট্রকে পৃথক করার একটি খসড়া পেশ করেছেন, যা খামেনি পরবর্তী সময়ের প্রস্তুতি বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের অন্দরের পরিস্থিতি: চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে ইরানও শুরু করেছে কূটনৈতিক পাল্টা চাল। ইরানের সুপ্রিম কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি প্রতিবেশীদের সাথে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলির দাবি, অস্থিরতা দমনে ২০,০০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে তেহরান। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অর্থনৈতিক ত্রাণের আশ্বাস দিলেও মার্কিন অবরোধের মুখে ইরানের ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তায়।