ইরানে অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের আকার নিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, সে দেশে আটকে পড়া প্রায় ১০,০০০ ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে ভারত সরকার। সূত্রের খবর, কোনো ঝুঁকি না নিয়ে আগামীকালই প্রথম দফার উদ্ধারকারী বিমানে একদল ভারতীয়কে দেশে ফিরিয়ে আনা হতে পারে।
উদ্ধারকাজ ও গ্রাউন্ড রিয়ালিটি: ইরানের ৩১টি প্রদেশেই এখন বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ইতিমধেই ৩,৪০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ইরানের অধিকাংশ জায়গায় ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন এবং ফোন লাইন বিপর্যস্ত। তাই ভারতীয় দূতাবাসের আধিকারিকরা সরাসরি এলাকায় গিয়ে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের খুঁজে বের করছেন। বিদেশ মন্ত্রকের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, “ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না, তাই আমাদের টিম মাটিতে নেমে ছাত্রদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করছে।”
দিল্লির কড়া অ্যাডভাইজরি ও কূটনৈতিক তৎপরতা: বুধবার ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে— ‘অবিলম্বে ইরান ছাড়ুন’। পর্যটক, তীর্থযাত্রী বা ব্যবসায়ী—সকলকেই বাণিজ্যিক বিমানে দ্রুত দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ভিড় বা বিক্ষোভ এলাকা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি স্বয়ং ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও নাগরিকদের সুরক্ষা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। এখন দেখার, আগামীকাল প্রথম দফায় কতজন ভারতীয়কে সুরক্ষিতভাবে দিল্লি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।





