টানা কয়েকদিনের হামলা আর পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন চরম অগ্নিগর্ভ। গত শুক্রবার ভোরে তেহরানসহ ইরানের বেশ কিছু পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েল বিমান হামলা চালানোর পর থেকেই সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। এরপর তীব্র শক্তি নিয়ে ইসরায়েলে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরান, যা দফায় দফায় চলছে। এই চরম পরিস্থিতিতে ইরানের হামলা ঠেকাতে এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে ইসরায়েল।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে ইসরায়েল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে সাহায্য চেয়েছে। ইসরায়েলি সম্প্রচার সংস্থা কান জানিয়েছে, ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশের কাছে অনুরোধ করেছে যেন তারা ইসরায়েলের দিকে নিক্ষেপ করা ইরানি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সহায়তা করে। কান আরও নিশ্চিত করেছে যে, যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের অনুরোধের জবাবে সহায়তা দেওয়া শুরু করেছে।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জও জানিয়েছেন, ইসরায়েল জার্মানির কাছে দমকল সরঞ্জাম চেয়েছে এবং “আমরা দ্রুতই তা সরবরাহের কাজ শুরু করব”। তিনি একইসাথে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই যুদ্ধ যাতে আরও বিস্তৃত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ইরান যেন ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধ করে।
যখন ইসরায়েল আন্তর্জাতিক সাহায্য চাইছে, ঠিক তখনই ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরেও হামলা চালাচ্ছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরানের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ চালাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, “ইসরায়েলি বিমান বাহিনী এখন ইরানের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অবস্থিত ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানছে।” এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইসরায়েল কেবল আত্মরক্ষাই নয়, পাল্টা আক্রমণও চালাচ্ছে।
হামাসের পূর্ণ সমর্থন ইরানের প্রতি, ইসরায়েলের উদ্বেগ বৃদ্ধি
এই চলমান সংঘাতের মধ্যে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সামরিক শাখা আল কাসসাম ব্রিগেড প্রকাশ্যে ইরানকে সমর্থন জানিয়েছে। তারা বলেছে, ইরান ফিলিস্তিনিদের পক্ষে যে অবস্থান নিয়েছে, তার জন্য তারা কৃতজ্ঞ। একইসাথে, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের নিহত হওয়ার ঘটনায় তারা শোক প্রকাশ করেছে। হামাসের এই সমর্থন ইসরায়েলের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ এটি আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে এই সর্বাত্মক যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চাইছে দ্রুত এই সংঘাতের অবসান হোক, যাতে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। তবে পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে কোনো সমাধানের আশা ক্ষীণ বলেই মনে হচ্ছে।