ইরানকে ধ্বংস করার ছক ট্রাম্পের? মধ্যপ্রাচ্যে বিধ্বংসী হামলায় বাড়ল যুদ্ধের দামামা!

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের কালো মেঘে ঢাকা। বৃহস্পতিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই নতুন করে ভয়াবহ উত্তজনা ছড়িয়ে পড়ল ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে। উত্তর ইরানের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন বাহিনীর বিধ্বংসী বিমান হামলার জবাবে তেহরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে বাহরিন ও কুয়েতে হামলা চালিয়েছে। দুই শক্তির এই পারস্পরিক প্রতিশোধমূলক লড়াই অঞ্চলটিকে এক ভয়াবহ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ইরানি স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩০০-রও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তবে হতাহতদের মধ্যে কতজন সাধারণ নাগরিক বা কতজন সামরিক বাহিনীর সদস্য, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশের ৩৮৮তম যান্ত্রিক পদাতিক ব্রিগেডের ব্যারাকে চালানো মার্কিন হামলায় সাতজন সৈন্যের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইরানের সরকারি গণমাধ্যম। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা রাতভর এবং দিনের আলোতেও ডজন ডজন লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালিয়েছে।

উত্তেজনা চরমে উঠেছে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে। সেন্টকমের দাবি, কুরাকাও-পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কার ‘বেলমা’ ইরানের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় নির্দেশ অমান্য করলে মার্কিন যুদ্ধবিমান হেলফায়্যার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সেটিকে অকার্যকর করে দেয়। তুনব দ্বীপে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও প্রতিরক্ষা স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে, যা বিশ্ববাজারে তেল ও সারের দাম আকাশচুম্বী করেছে। এই মুদ্রাস্ফীতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির শর্ত মানতে ব্যর্থ হলে ইরান একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুত। তাঁর কথায়, “আলোচনা মানে আত্মসমর্পণ নয়, বরং প্রতিরোধের বৃহত্তর কৌশল।” কূটনৈতিক সব পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন আশঙ্কা করছে, পরিস্থিতির দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না হলে এই লড়াই বিশ্বকে এক অনিশ্চিত পরিণতির দিকে টেনে নিয়ে যাবে।