ইমাম-মোয়াজ্জিনদের ভাতায় বড় কোপ শুভেন্দুর? নবান্ন থেকে জারি হলো কড়া ফরমান!

রাজ্যে প্রশাসনিক পালাবদলের পর থেকেই ব্যবস্থার আমূল সংস্কারে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার তাঁর কড়া নজর পড়ল ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়ার ওপর। সরকারি কোষাগারের অর্থের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করতে এবং যে কোনও ধরণের বেনিয়ম বা অস্বচ্ছতা রুখতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের জন্য বরাদ্দ সমস্ত ভাতা এবার থেকে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালের (Online Portal) মাধ্যমেই প্রদান করা হবে। ওই পোর্টালের বাইরে বা অফলাইন পদ্ধতিতে কাউকেই আর কোনও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে না।
নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যে স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বুধবার সংখ্যালঘু দফতরের উচ্চপর্যায়ের একটি পর্যালোচনা বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৪২ হাজার ইমাম এবং ২৭ লক্ষ মোয়াজ্জিন সরকারি ভাতা পেয়ে থাকেন। এই বিপুল সংখ্যক উপভোক্তার যাবতীয় তথ্য এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট পোর্টালে আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে সংখ্যালঘু দফতরের সচিব পিভি সেলিমকে এই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য কড়া সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।
প্রশাসনিক এই নির্দেশের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানানো হয়েছে, ডিজিটাল এই পোর্টালে যাঁদের তথ্য ও নথিপত্র সফলভাবে নথিবদ্ধ করা হবে, কেবলমাত্র তাঁরাই ভাতার টাকা পাওয়ার জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। এর ফলে তালিকা থেকে ভুয়ো নাম বাদ দেওয়া এবং সরাসরি প্রাপকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়া (Direct Benefit Transfer) অনেক সহজ হবে। মূলত ভাতার টাকা বিলি নিয়ে যে কোনও অস্বচ্ছতা বা মাঝপথে টাকার অপব্যবহার রুখতেই এই প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
বৈঠক চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী এই পোর্টালটি এতদিন চালু না হওয়া নিয়ে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেন বলে জানা গিয়েছে। সচিবের কাছে রিপোর্ট তলব করে তিনি জানতে চান, কেন এতদিন এই অনলাইন ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। জবাবে দফতরের সচিব পিভি সেলিম জানান, প্রয়োজনীয় পোর্টালটি অনেক আগেই তৈরি হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু আগের সরকারের কিছু ‘আপত্তি’ বা বিশেষ পরিস্থিতির কারণে তা পুরোদমে ব্যবহার করা যায়নি। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পর সচিব স্পষ্ট করেন যে, বৃহস্পতিবার থেকেই এই ডিজিটাল প্রক্রিয়া কার্যকর হতে শুরু করবে।
বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছেন সংখ্যালঘু দফতরের সচিব পিভি সেলিম। তিনি বলেন, “আমাদের পোর্টাল এক বছর আগে থেকেই তৈরি ছিল। কিন্তু আগের সরকার আপত্তি করেছিল। তাই কার্যকর করা যায়নি। আজ মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা বৃহস্পতিবার থেকেই তা চালু করে দেব।”
সচিবের এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, আগের জমানায় এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বাধা ছিল, যা বর্তমান সরকার দ্রুত সরিয়ে ফেলতে চাইছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরাসরি পরিষেবা বা ডিবিটি ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে। ইমাম-মোয়াজ্জিনদের ভাতার ক্ষেত্রেও এই পদ্ধতি কার্যকর করা সেই বড় লক্ষ্যমাত্রারই একটি অংশ। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় কমবে, অন্যদিকে প্রকৃত প্রাপকরা সময়মতো তাঁদের পাওনা পাবেন। কোনওরকম মাধ্যম বা তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই এই অর্থ বণ্টন করার ফলে প্রশাসনিক কাজে গতি আসবে বলেও মনে করা হচ্ছে।