ইভিএম-এর লড়াইয়ে সামান্য ভুল মানেই শ্রীঘর? গণনাকর্মীদের জন্য কমিশনের নয়া ফতোয়ায় তোলপাড় রাজ্য

৪ মে ভোটের ফলাফল। কিন্তু তার আগে থরহরিকম্প দশা গণনাকর্মীদের। ভোটগ্রহণ মিটতেই এবার গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিল নির্বাচন কমিশন। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, গণনা চলাকালীন একটি সংখ্যা বা তথ্যেও যদি ভুল ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক বা কর্মীর শুধু শাস্তি নয়, সরাসরি চাকরি যেতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার গণনাকর্মীদের কাছ থেকে রীতিমতো ‘মুচলেকা’ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

মুচলেকা ছাড়া প্রবেশ নিষেধ! রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল সাফ জানিয়েছেন, গণনা কেন্দ্রের ভেতরে যারা কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, সুপারভাইজার বা কম্পাইলেশনের কাজ করবেন, তাঁদের প্রত্যেককে দায়িত্ব নেওয়ার আগে লিখিত মুচলেকা দিতে হবে। শুধু তাই নয়, গণনাকেন্দ্রের বাইরে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। অর্থাৎ, ভেতরে তথ্য বিভ্রাট হোক বা বাইরে বিশৃঙ্খলা—দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট সকলকেই।

নজরে স্ট্রং রুম: কড়া নির্দেশ নবান্নের এদিকে স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধীদের বারবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে নবান্নও কোমর বেঁধে নেমেছে। মুখ্য সচিবের দফতর থেকে প্রতিটি জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে (DEO) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:

  • প্রতিদিন অন্তত দুবার সশরীরে স্ট্রং রুম পরিদর্শন করতে হবে।

  • সিসিটিভি ক্যামেরা যাতে এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

  • নিরাপত্তার প্রতিটি খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখে সরাসরি রিপোর্ট করতে হবে।

কেন এই কড়াকড়ি? নির্বাচন কমিশনের মতে, এবারের বিধানসভা ভোটে গতবারের তুলনায় ভোটার কমলেও প্রায় ৩৪ লক্ষ বাড়তি ভোট পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ ভোটের গণনায় যাতে কোনও টেকনিক্যাল বা ম্যানুয়াল ভুল না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই ‘শক থেরাপি’। বিশেষ করে সিসিটিভি বন্ধ হয়ে যাওয়া বা তথ্য আপলোডে কারচুপির যে অভিযোগ বারবার ওঠে, তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে চাইছে কমিশন।

সহজ কথায়, ৪ মে গণনাকেন্দ্রের ভেতরে বা বাইরে সামান্যতম গাফিলতি হলেও রেহাই নেই কারোর। চাকরি বাঁচানো আর স্বচ্ছ ফল ঘোষণা করাই এখন প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ৪ মে-র প্রতি মুহূর্তের ব্রেকিং আপডেটের জন্য চোখ রাখুন আমাদের পোর্টালে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy