ইন্দো-প্যাসিফিকে শক্তি বাড়াল ভারত! ফিলিপাইনে ৬ দেশের নৌবাহিনীর মেগা মহড়া!

ভারত ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে একটি সুবৃহৎ বহুপাক্ষিক সামরিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করল ভারতীয় নৌবাহিনী। ফিলিপাইনের সুবিক উপসাগরে আয়োজিত ‘এডিএমএম-প্লাস এক্সপার্টস ওয়ার্কিং গ্রুপ অন মেরিটাইম সিকিউরিটি জয়েন্ট কোঅপারেশন অ্যাক্টিভিটি’-তে অংশ নেয় ভারতের যুদ্ধজাহাজ আইএনএস সহ্যাদ্রি এবং মিসাইল করভেট আইএনএস কুলিশ। গত ২১ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই যৌথ মহড়া সফলভাবে সমাপ্ত হয় ২৫ সেপ্টেম্বর।

ফিলিপাইন নৌবাহিনীর আয়োজনে এবং জাপানের সহ-সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই যৌথ কার্যক্রমে ভারত ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী অংশ নেয়। মহড়ার প্রাথমিক পর্বে বন্দর কেন্দ্র করে নৌ সমন্বয়, সামুদ্রিক শান্তি ও নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বিশদ আলোচনা করেন। এর পাশাপাশি নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়।

সমুদ্র-পর্ব ও যৌথ অভিযান

গত ২২ সেপ্টেম্বর ভারতীয় নৌবাহিনীর সদস্যরা অপারেশনাল সিনক্রোনাইজেশন এবং টেবিলটপ অনুশীলনে অংশ নেওয়ার পর সমুদ্র-পর্বের (সি-ফেজ) জন্য একটি প্রাক-যাত্রা সম্মেলনে যোগ দেন। এছাড়া জাম্বালেসের শেফার্ডস অফ দ্য হিল সেন্টারে একটি বিশেষ জনসম্পৃক্ততা কর্মসূচিতেও অংশ নেন ভারতীয় জওয়ানেরা। সমুদ্র পর্বে আয়োজিত বিভিন্ন কৌশলগত মহড়ার মধ্যে ছিল মূলত— সমুদ্রে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান, হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ, আহত ও চিকিৎসাজনিত কারণে দ্রুত স্থানান্তর, ডেকে হেলিকপ্টার অবতরণের যোগ্যতা অর্জন এবং বিপদে পড়া বা আটকে থাকা জাহাজকে জরুরি সহায়তা প্রদান।

এই ধরনের যৌথ মহড়া বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীকে যেকোনো সামুদ্রিক জরুরি অবস্থার সময়ে দ্রুত একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বজায় রাখার সুযোগ করে দেয়। যা আগামী দিনে আঞ্চলিক অভিযানগত সমন্বয় এবং আন্তঃকার্যক্ষমতা (Interoperability) বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

ভারতের সুনির্দিষ্ট ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ এবং ‘মহাসাগর’ (SAGAR – Security and Growth for All in the Region) রূপকল্পের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতি রেখেই আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে ভারতীয় নৌবাহিনীর এই সার্থক অংশগ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।