ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকে ইন্ডিগো (IndiGo) বিমান সংস্থার ২৭০০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল ও ব্যাপক বিলম্বের জেরে শেষ পর্যন্ত নড়েচড়ে বসল ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA)। শনিবার ইন্ডিগোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) পিটার এলবার্স এবং এয়ারলাইনটির অ্যাকাউন্টেবল ম্যানেজার ও সিওও ইসিড্রে পরকুয়েরাস-কে শোকজ নোটিশ (Show-Cause Notice) জারি করেছে ভারতের বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বিমান সংস্থার ম্যানেজমেন্টকে এই নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য মাত্র ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে।
মূল অভিযোগ: কেন এত বিমান বাতিল?
ডিজিটাল ইন্ডিগো-কে পাঠানো চিঠিতে DGCA স্পষ্ট জানিয়েছে যে এত ফ্লাইট বাতিলের প্রধান কারণ হলো— এয়ারলাইনটির জন্য অনুমোদিত নতুন ‘ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন’ (FDTL) স্কিম কার্যকর করার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা।
DGCA-এর মতে, ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ যথাযথ পরিকল্পনা, তদারকি এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে FDTL নিয়মগুলি লঙ্ঘিত হয়েছে। নতুন FDTL নিয়ম কার্যকর শুরু হয় গত ১ নভেম্বর, কিন্তু ইন্ডিগো তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় পাইলট ও কেবিন ক্রুদের কাজের সময়সীমার জটিলতা তৈরি হয়, যার ফল ভোগ করেন যাত্রীরা।
সরাসরি CEO দায়ী:
নিয়ন্ত্রক সংস্থা সরাসরি CEO পিটার এলবার্সকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করে বলেছে, “নির্ভরযোগ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতে এবং যাত্রীদের প্রাপ্য সুবিধা প্রদানে তিনি তাঁর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।”
নোটিশে আরও বলা হয়েছে যে ফ্লাইট বাতিল বা দীর্ঘ বিলম্বের সময় যাত্রীদের তথ্য সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ইন্ডিগো ব্যর্থ হয়েছে।
পিটার এলবার্সকে Aircraft Rules এবং Civil Aviation Requirements-এর প্রাসঙ্গিক বিধান অনুযায়ী কেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেই বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। DGCA কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দিতে ব্যর্থ হলে বিষয়টি ‘একতরফাভাবে’ (ex-parte) সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।