বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বাম-ISF জোটের সমীকরণ নিয়ে নাটকীয় মোড়। বামফ্রন্ট ইতিমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা করে দিলেও হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ছাড়তে নারাজ ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (ISF)। শুক্রবার হুগলির ফুরফুরা শরিফ থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে নওশাদ সিদ্দিকি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাঁরা এই আসনে লড়াই করবেনই। এই মর্মে বামেদের কাছে প্রার্থী প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে আলিমুদ্দিনে মেইলও করেছেন তিনি।
৪ আসনে সংঘাত: প্রার্থী তোলার আর্জি নওশাদের
নওশাদ সিদ্দিকি জানান, বামফ্রন্টের সঙ্গে মোট ২৯টি আসনে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে। তবে এর মধ্যে ৪টি এমন আসন রয়েছে যেখানে বামেরা ইতিমধ্যেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। ISF-এর দাবি, বিজেপি ও তৃণমূলকে হারাতে তারা সর্বোচ্চ ত্যাগ করেছে, এবার বামেদের উচিত এই ৪টি আসন ছেড়ে দেওয়া:
-
নন্দীগ্রাম
-
পাঁশকুড়া পশ্চিম
-
ভগবানগোলা
-
মুরারই
ISF-এর কার্যনির্বাহী সভাপতি সামসুর আলি মল্লিক বলেন, “আমরা মেইল মারফত বামেদের জানিয়েছি যাতে এই ৪টি আসনে তাঁরা প্রার্থী না দেন।”
নন্দীগ্রামে চতুর্মুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত?
নন্দীগ্রাম আসনটি এবারও আকর্ষণের কেন্দ্রে। এখানে হেভিওয়েট প্রার্থী বিদায়ী বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের বাজি শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ দলবদলকারী পবিত্র কর। বামেদের পক্ষে লড়াই করছেন CPI-এর শান্তি গিরি। এখন ISF যদি সেখানে আলাদা করে প্রার্থী দেয়, তবে নন্দীগ্রামে চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠছে, যা বিরোধী ভোট ভাগ করে শাসকদলের সুবিধা করে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এক নজরে ISF-এর শক্তিকেন্দ্রগুলি:
নওশাদ সিদ্দিকি জানিয়েছেন, ইদ উৎসব মিটলেই তাঁরা প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবেন। যে জেলাগুলিতে ISF লড়বে:
-
উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভাঙড়, ক্যানিং (পূর্ব ও পশ্চিম), হাড়োয়া, মিনাখাঁ, আমডাঙা, অশোকনগর।
-
মুর্শিদাবাদ ও মালদা: মোথাবাড়ি, সুজাপুর, সামসেরগঞ্জ, রঘুনাথগঞ্জ।
-
অন্যান্য: হুগলির হরিপাল, খানাকুল; বীরভূমের বোলপুর; হাওড়ার উলুবেড়িয়া এবং জগৎবল্লভপুর।