ইতিহাস বদলাচ্ছে স্কুল পাঠ্যবইয়ে! জরুরি অবস্থার কালো অধ্যায় এবার নবম শ্রেণির সিলেবাসে

স্বাধীন ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক অন্যতম অন্ধকার ও বিতর্কিত অধ্যায় হলো ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সালের ‘জরুরি অবস্থা’। এতদিন পর্যন্ত এই বিষয়টি মূলত দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এক বড় পরিবর্তনের মাধ্যমে NCERT এবার নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের পাঠ্যবইতে অন্তর্ভুক্ত করল জরুরি অবস্থার সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কাহিনী। জাতীয় শিক্ষানীতির পরিমার্জিত রূপরেখা অনুযায়ী, হাই স্কুলের পড়ুয়াদের কাছে গণতন্ত্রের এই বড় চ্যালেঞ্জটি তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নতুন প্রকাশিত বই ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড পার্ট ১’-এর ষষ্ঠ অধ্যায়ে জরুরি অবস্থার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। জরুরি অবস্থা ঘোষণার ৫১ বছর পর এই প্রথমবার নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা এই বিষয়টি পড়ার সুযোগ পাবে। পাঠ্যপুস্তকে এই সময়কালকে ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বইটির পাতায় স্পষ্ট করে লেখা হয়েছে, সত্তরের দশকের শুরুতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি এবং দুর্নীতির কারণে দেশজুড়ে যে তীব্র অসন্তোষ ও গণবিক্ষোভ দানা বেঁধেছিল, তার প্রেক্ষাপটেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
পাঠ্যবইতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৯৭৫ সালের জুন মাসে ‘অভ্যন্তরীণ গোলযোগ’-এর দোহাই দিয়ে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। এই সময়ে নাগরিকদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার খর্ব করা, সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ, রাজনৈতিক নেতা ও সমাজকর্মীদের নির্বিচারে কারাবন্দি করার মতো ঘটনাগুলো গণতন্ত্রের ভিতকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। একই সঙ্গে এই দুঃসময়ের বিরুদ্ধে জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গণ-আন্দোলনের ভূমিকাও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
তবে শুধু জরুরি অবস্থাই নয়, এই পাঠ্যবইয়ের পরিমার্জিত সংস্করণে ভুয়ো খবর, সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি, দারিদ্র্য এবং লিঙ্গবৈষম্যের মতো আধুনিক সময়ের জরুরি সমস্যাগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই পড়ুয়ারা এই নতুন বইটি হাতে পাবে। পাঠ্যসূচীর এই ব্যাপক অদলবদলের অংশ হিসেবে ফরাসি বিপ্লব, রুশ বিপ্লব এবং নাৎসিবাদের মতো আন্তর্জাতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোকে নবম শ্রেণি থেকে সরিয়ে দশম শ্রেণির পাঠ্যবইতে স্থানান্তর করা হয়েছে। পাঠ্যসূচীর এই নতুন সংযোজন ও বিয়োজন ভারতের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।