: ভারতের কর্পোরেট দুনিয়ায় বড়সড় চমক! ইটার্নাল (Eternal)-এর সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেন সংস্থার কর্ণধার দীপিন্দর গোয়েল। মঙ্গলবার স্টক এক্সচেঞ্জে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি। একই সঙ্গে শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশে একটি আবেগঘন খোলা চিঠি লিখে নিজের সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন দীপিন্দর।
দীপিন্দর গোয়েল মানেই ইটার্নালের উত্থান, বিস্তার এবং বাজারে আধিপত্যের রূপকার। তাঁর নেতৃত্বেই সংস্থাটি একের পর এক কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। স্বাভাবিকভাবেই, তাঁর এই প্রস্থান সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই বিনিয়োগকারী এবং বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন।
শেয়ারহোল্ডারদের লেখা চিঠিতে দীপিন্দর জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত কোনো তাৎক্ষণিক আবেগের বশবর্তী হয়ে নেওয়া নয়। বরং সংস্থার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভাবনাচিন্তা করছিলেন। তিনি মনে করেন, ইটার্নাল এখন এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে যেখানে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন। তবে সিইও পদ ছাড়লেও সংস্থার সঙ্গে তাঁর নাড়ির টান যে ছিন্ন হচ্ছে না, তা তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে তাঁকে কোনো বিশেষ পরামর্শদাতা বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
চিঠিতে কর্মীদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দীপিন্দর লেখেন, “ইটার্নাল শুধু একটি কোম্পানি নয়, এটি আমার তিল তিল করে গড়ে তোলা স্বপ্ন।” এদিকে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীপিন্দরের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, সেই খোঁজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার মাধ্যমে কোম্পানির দৈনন্দিন কাজকর্ম চালানো হবে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠাতা-নেতা যখন সরে দাঁড়ান, তখন শেয়ার বাজারে সাময়িক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে দীপিন্দরের এই ‘এক্সিট’ সংস্থাকে আরও পেশাদার এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির পথে নিয়ে যেতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে। এখন দেখার, ইটার্নালের এই ঐতিহাসিক রদবদল শেয়ার বাজারে কেমন প্রভাব ফেলে।