বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের কালো মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও পরিস্থিতি বদলায়নি। গত কয়েক মাসে দীপু দাস ও সুসেন সরকারের মতো বহু সংখ্যালঘু নাগরিক ধর্মান্ধদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। এই চরম অস্থিরতার আবহে কাল, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সাধারণ নির্বাচন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ব্যালট কি আদৌ হিন্দুদের ভাগ্য ফেরাতে পারবে?
বিএনপি এবং জামাত-ই-ইসলামির মতো দলগুলি ভোটের আগে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার আশ্বাস দিচ্ছে। এমনকি জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা দীপু দাসের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যও করেছে তারা। তবে রাজনীতির এই ‘দয়ার ছবি’ হিন্দুদের মনে ভরসা জোগাতে পারছে না। ইতিহাস বলছে, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে প্রায় সব দলই হিন্দু সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু ভোট মিটে গেলেই শুরু হয়েছে মন্দির ভাঙচুর ও ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের তাণ্ডব। আজ বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৮ শতাংশ হিন্দু, যা চার দশক আগে ছিল ১৩.৫ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তাহীনতা ও ক্রমাগত আক্রমণের জেরে হিন্দুরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন বলেই এই সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি জানাচ্ছে, বর্তমান সহিংসতা কেবল সাধারণ অপরাধ নয়, বরং পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক হামলা। মৌলবাদীরা সুকৌশলে মন্দিরে হামলা চালিয়ে হিন্দুদের বিশ্বাসে আঘাত হানছে। যদিও প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের দাবি, ২০২৫ সালের ৬৪৫টি ঘটনার মধ্যে মাত্র ৭১টি সাম্প্রদায়িক; কিন্তু মানবাধিকার সংগঠনগুলি এই পরিসংখ্যানকে বিভ্রান্তিকর বলে মনে করছে। তাঁদের মতে, হাসিনা পরবর্তী সময়ে জামাতের মতো ভারত-বিরোধী শক্তিগুলি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। কালকের নির্বাচনের পর যদি উগ্রপন্থীরা ক্ষমতায় আসে, তবে সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব তলানিতে ঠেকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।