বাংলাদেশে কি আদৌ নির্বাচন হবে? নাকি ভোট করানোর কথা কেবলই মুখের কথা? এই প্রশ্ন এখন বাংলাদেশের মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। গত জুলাই মাসে গণ-আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেন। তখন থেকেই তিনি বারবার বলে আসছেন, দ্রুত সাধারণ নির্বাচন করানো হবে। তবে তাঁর কথা আর কাজের মধ্যে অনেকেই মিল খুঁজে পাচ্ছেন না।
সম্প্রতি কক্সবাজারে এক অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস আবার ঘোষণা করেছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে এবং ভোটে যে দল জিতবে, তাদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, দেশ এখন স্থিতিশীল এবং নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। এক বছর আগে ভয়াবহ গণহত্যার মুখোমুখি হওয়ার পর ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে দেশকে ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এই কথা বলেন।
ভোটের নামে ‘আইওয়াশ’ গেম?
ড. ইউনূসের মুখে বারবার নির্বাচনের কথা শোনা গেলেও, বাংলাদেশে সত্যিই জাতীয় নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচনের কথা বলাটা আসলে এক ধরনের ‘আইওয়াশ গেম’। বিবিসি-র খবর অনুযায়ী, জামায়াত ও এনসিপি (ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি) নামের দুটি দল ভোট পেছানোর কথা বলছে। তাদের দাবি, জুলাই মাসের যে ঘোষণা ছিল, তা আগে পূরণ করতে হবে এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচার করতে হবে। অন্যদিকে, বিএনপি চাইছে ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হোক।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন এই দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। জামায়াত ও এনসিপি নেতারা বলছেন, তাদের শর্ত পূরণ না হলে তারা ভোট বর্জন করতে পারেন। তাদের ধারণা, ইউনূসের সরকার কোনোমতে একটি নির্বাচন করিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে চাইছে এবং দেশের মূল সমস্যাগুলো এড়িয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে এটাও শোনা যাচ্ছে যে, এনসিপি আসলে ড. ইউনূসেরই মদতপুষ্ট একটি নতুন দল।
ভোট বানচাল করার চেষ্টা?
এই মুহূর্তে, জামায়াত ও এনসিপি-র প্রধান লক্ষ্য হলো বিএনপি-কে ঠেকানো। কারণ, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের পর যদি কোনো দলের সবচেয়ে বেশি জনসমর্থন থাকে, তবে তা হলো খালেদা জিয়ার বিএনপি। অন্যদিকে, এনসিপি একদম নতুন দল। যদি নির্বাচন হয়, তবে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারেরও মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। তাই অনেকেই মনে করছেন, এই দল দুটি এখন চাইছে কীভাবে নির্বাচন বানচাল করা যায়। সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি এখন এক অনিশ্চিত মোড়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।