ইউক্রেন যে মিসাইল ব্যবহার করছে, এবার তা আসছে ভারতীয় সেনার হাতে!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের মধ্যে মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে ৪৬৮ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩,৮৮৪ কোটি টাকা) মূল্যের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ব্রিটেন ভারতীয় সেনাবাহিনীকে অত্যাধুনিক লাইটওয়েট মাল্টিরোল মিসাইল (LMM) সরবরাহ করবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, ব্রিটিশ সরকার এই চুক্তিকে তাদের প্রতিরক্ষা শিল্প এবং ভারতের সঙ্গে গভীর কৌশলগত সম্পর্কের জন্য একটি ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই LMM মিসাইলগুলি উত্তর আয়ারল্যান্ডে ব্রিটিশ কোম্পানি থ্যালেস (Thales) দ্বারা তৈরি করা হবে এবং এই চুক্তির ফলে প্রায় ৭০০ ব্রিটিশ কর্মীর চাকরি রক্ষা পাবে। উল্লেখ্য, ইউক্রেন সেনাবাহিনীও রাশিয়ার বিরুদ্ধে এই একই মিসাইল ব্যবহার করছে।

LMM মিসাইল চুক্তি: শক্তি বাড়াচ্ছে ভারতীয় সেনা

ব্রিটেন ভারতকে যে লাইটওয়েট মাল্টিরোল মিসাইল (LMM) সিস্টেম সরবরাহ করবে, তা ‘মার্লেট’ নামেও পরিচিত এবং থ্যালেস এয়ার ডিফেন্স দ্বারা তৈরি। এই হালকা মিসাইলটি অত্যন্ত বহুমুখী:

ক্ষমতা: এটি আকাশ থেকে ভূমি, আকাশ থেকে আকাশ, ভূমি থেকে আকাশ ও ভূমি থেকে ভূমিতে আঘাত হানতে সক্ষম।

ব্যবহার: ভারতীয় সেনাবাহিনী এই এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম এবং লঞ্চার পাবে। এটি ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং ছোট বিমান ধ্বংস করতে পারে।

বৈশিষ্ট্য: এটি সাঁজোয়া যান, হেলিকপ্টার এবং যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোড়া যেতে পারে। ৬ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্ব পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম এই লেজার বিম গাইডেন্স-ভিত্তিক মিসাইলটির গতি ম্যাক ১.৫। মাত্র ১৩ কিলো ওজনের এই মিসাইলটি ২০১৯ সাল থেকে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে মোতায়েন রয়েছে।

সামুদ্রিক খাতে বড় চুক্তি ও RMSCE প্রতিষ্ঠা

প্রতিরক্ষা চুক্তি ছাড়াও, সামুদ্রিক খাতে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি বড় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ইন্দো-প্যাসিফিক ওশান ইনিশিয়েটিভ (IPOI) এর অধীনে একটি রিজিওনাল মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার অফ এক্সিলেন্স (RMSCE) প্রতিষ্ঠা।

লক্ষ্য: এই কেন্দ্রটি ভারত মহাসাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং প্রশিক্ষণ, জ্ঞান ভাগাভাগি ও প্রযুক্তির উন্নয়নের উপর জোর দেবে।

ভূমিকা: যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ জানিয়েছে, RMSCE জলদস্যু, অবৈধ মাছ ধরা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: এই উদ্যোগটি ভারত-যুক্তরাজ্য ভিশন ২০৩৫-এর অংশ, যা প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এছাড়াও, ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য বৈদ্যুতিক চালনা ব্যবস্থা নিয়েও সহযোগিতা জোরদার হচ্ছে।