ইউক্রেনীয় ড্রোনের ঘাকে কাঁপছে রাশিয়া! নিজের দেশের তেল রিফাইন করতেই ভারতের দ্বারস্থ পুতিন

ইউক্রেনের বিধ্বংসী ড্রোন হামলার জেরে ঘরোয়া রিফাইনারিগুলোর উৎপাদন মার খাওয়ায় চলতি বছরের আগস্ট মাসে নজিরবিহীনভাবে রেকর্ড ১.৭২ লক্ষ টন পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করেছে রাশিয়া। সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (CREA)-এর সাম্প্রতিক মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার এই বিশাল আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশ জুগিয়েছে ভারত। আগস্ট মাসে ভারত একাই রাশিয়াকে ১.২০ লক্ষ টন পেট্রোল সরবরাহ করেছে, যার মোট আর্থিক মূল্য প্রায় ৭.৮ কোটি ইউরো। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই জ্বালানি ভারতের গুজরাটের ওয়াদিনারে অবস্থিত নায়রা এনার্জি রিফাইনারিতে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে, যেখানে রুশ সরকারি তেল সংস্থা রোসনেফটের প্রায় ৪৯.১৩ শতাংশ অংশীদারি রয়েছে। অর্থাৎ, পুতিনের দেশ থেকে কাঁচা তেল এনে তা ভারতেই পরিশোধন করে আবার চড়া দামে বা প্রয়োজনে নিজেদের দেশেই ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে মস্কো। সিআরইএ জানিয়েছে, এই পরিমাণ আমদানি গত বছরের সমগ্র গড়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।
ইউক্রেনের লাগাতার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ঘরোয়া বাজারে তীব্র জ্বালানি ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ঐতিহাসিক দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশ হওয়া সত্ত্বেও আগস্ট মাসে রাশিয়ার মোট তেল আমদানির ৭৪ শতাংশই ছিল পেট্রোল, যেখানে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই হার মাত্র ৬ শতাংশের ঘরে সীমাবদ্ধ ছিল। ভারতের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া এবং মিশরও আগস্ট মাসে রাশিয়াকে যথাক্রমে ১৮,০০০ টন গ্যাসঅয়েল এবং ২৫,০০০ টন ডিজেল সরবরাহ করেছে। এদিকে, নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এবং আন্তর্জাতিক নজরদারি এড়াতে মিসরের উপকূলের কাছে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের পর তা রাশিয়ার বेलोয়ে মোরে বন্দরে খালাস করা হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা বিতর্কিত ও কালোতালিকাভুক্ত ট্যাংকারগুলো ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেনের নিরবচ্ছিন্ন আক্রমণের ফলে রাশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক বন্দর তুপসে থেকে মে মাস থেকে টানা তিন মাস ধরে একটিও তেলের চালান পাঠানো সম্ভব হয়নি। সার্বিকভাবে রাশিয়ার এই ব্যতিক্রমী তেল আমদানি কৌশল আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও বাণিজ্যে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।