আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। প্রাথমিকভাবে বিমানে থাকা ২৪১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও, এখন সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে। গুজরাট পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোট ২৭৪ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে শনিবার সকাল পর্যন্ত, যা আগের ঘোষিত ২৬৫ জনের থেকে বেশি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
মেঘানি নগরের বুকে বিভীষিকা: হোস্টেল পরিণত শ্মশানে
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা বেজে ৩৮ মিনিটে এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ১৭১ বিমানটি লন্ডনের উদ্দেশ্যে আহমেদাবাদ থেকে উড্ডয়ন করে। কিন্তু মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিমানটি বিমানবন্দরের অদূরে মেঘানি নগরের বিজে মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের ছাদে একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আছড়ে পড়ে। এই দোতলা বিল্ডিংয়ে বিমানটি ধাক্কা খাওয়ায় হোস্টেলের ভেতরে থাকা বহু চিকিৎসক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদেরও মৃত্যু হয়েছে। এক নিমেষে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ পরিণত হয়েছে শ্মশানে।
দেহাংশ শনাক্তকরণে ডিএনএ-ই ভরসা
দুর্ঘটনার পর থেকেই জাতীয় এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী জোরকদমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে। এই দুর্ঘটনায় বিমানের যাত্রীদের পাশাপাশি বহু স্থানীয় বাসিন্দাও প্রাণ হারিয়েছেন। উদ্ধার করা হচ্ছে দেহ এবং বিচ্ছিন্ন দেহাংশ। অনেক ক্ষেত্রে শুধুমাত্র হাত বা পায়ের অংশ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে।
শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ আগুনে ঝলসে যাওয়া মৃতদেহ বা দেহাংশ দেখে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা শনাক্তকরণে সাহায্য করবে। এই ডিএনএ পরীক্ষা যেন স্বজনহারাদের শেষ আশার আলো।
সরকারিভাবে চূড়ান্ত সংখ্যা অজানা: উদ্ধারকাজ চলছে
তবে সরকারি তরফে এখনও দুর্ঘটনায় মৃতের চূড়ান্ত সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। এর কারণ হলো, উদ্ধারকাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। বিমানের বিশাল ধ্বংসস্তূপ সম্পূর্ণ সরাতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। যতক্ষণ না ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি সরানো হচ্ছে, ততক্ষণ এর নিচে আরও কেউ চাপা পড়ে আছেন কিনা, তা স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। ধ্বংসস্তূপ সম্পূর্ণ অপসারণ হলেই মৃতের সঠিক সংখ্যা জানা যাবে।
আহমেদাবাদের এই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা কেবল একটি শহরের নয়, সমগ্র দেশের বুকে এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এবং প্রতিটি মৃতদেহ শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই শোকের আবহ কাটবে না।