আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার অভিশপ্ত AI171 বিমানের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখন মৃত্যুপুরী গোটা শহর। বিমানটি মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে ধাক্কা লেগে বিস্ফোরণ ঘটার ঠিক আগে, পাইলট সুবীর সভরওয়াল তার শেষ বার্তাটিই পাঠাতে পেরেছিলেন – “আমরা কেউ বাঁচব না… মেডে, মেডে!” বিমান টেকঅফ করার মুহূর্তেই যে কোথাও একটা গুরুতর গণ্ডগোল হচ্ছে, তা বুঝে গিয়েছিলেন এই অভিজ্ঞ পাইলট।
পাইলটের শেষ বার্তা: ‘থ্রাস্ট ইজ নট অ্যাচিভড… মেডে!’
বৃহস্পতিবার দুপুরে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে টেকঅফ করার পরেই AI171 বিমানের পাইলট সুবীর সভরওয়াল বিপদের আঁচ পেয়ে যান। বিপদ বুঝে তিনি আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC)-কে জরুরি বার্তা পাঠান। কিন্তু যতক্ষণ না পাল্টা উত্তর আসে, ততক্ষণে আর শেষরক্ষা করা যায়নি।
বিশেষ সূত্রকে উদ্ধৃত করে এবিপি আনন্দ জানিয়েছে, টেকঅফের পরেই পাইলট এটিসি-কে যে জরুরি বার্তা পাঠিয়েছিলেন, তাতে তাকে বলতে শোনা গিয়েছিল: “থ্রাস্ট ইজ নট অ্যাচিভড… ফলিং… কমিউনিকেশন লাইন ডিউরিং দিস ট্রান্সমিশন ভেরি উইক… মেডে।” অর্থাৎ, “বল (প্রয়োজনীয় শক্তি) পাওয়া যায়নি… পড়ে যাচ্ছি… বিমান উপরে উঠছে না… আমরা বাঁচব না… যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল…।”
‘মেডে, মেডে’ বার্তাটি ফরাসি শব্দ ‘m’aider’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘দ্রুত এসে আমাকে সাহায্য করো’। এটি বিমান এবং জাহাজ থেকে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পাঠানো একটি আন্তর্জাতিক জরুরি বার্তা। পাইলট বিপদ বুঝতে পেরেই এই বার্তা পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু এটিসি থেকে যোগাযোগ করা হলে বিমান থেকে আর কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
১ মিনিটের মধ্যেই মহাবিপর্যয়: হোস্টেলে ধাক্কা ও বিস্ফোরণ
জানা গেছে, টেকঅফের প্রায় ১ মিনিটের মধ্যেই বিপদ নেমে এসেছিল। বিমানটি উপরে ওঠার বদলে দ্রুত বেগে নীচে নেমে আসতে থাকে। কিছুটা এগিয়েই এটি মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনার অভিঘাত এতটাই বেশি ছিল যে, বিমানের কিছুটা অংশ হোস্টেলের ভেতরে ঢুকে যায় এবং বাকি অংশটা মাটিতে আছড়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গেই ঘটে বিরাট বিস্ফোরণ। এএফপি (AFP) সূত্রে খবর, এখনো পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ২৭৯ ছুঁয়েছে।
বিমান সুরক্ষার উদ্বেগ: ব্ল্যাক বক্সের অপেক্ষায় সবাই
এই মর্মান্তিক ঘটনা বিমান সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পাইলটের শেষ বার্তাটি বিমানের কারিগরি ত্রুটির দিকে ইঙ্গিত করলেও, ব্ল্যাক বক্সের তথ্য হাতে আসার পরেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডি কি বৈশ্বিক বিমান পরিবহন শিল্পে নতুন সুরক্ষা মানদণ্ড স্থাপন করবে? এই প্রশ্নই এখন সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।