আসল দ্বন্দ্ব এবার আদালতে, কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা ঠুকলেন মিঠুন চক্রবর্তী

কুণাল ঘোষের মন্তব্যে তীব্র ক্ষুব্ধ হয়ে এবার আইনি পথে হাঁটলেন বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেছেন তিনি। ৩ সেপ্টেম্বর এই মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে ইটিভি ভারতকে জানিয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তীর আইনজীবী। পাল্টা কুণাল ঘোষও সমাজমাধ্যমে মিঠুনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত: মিঠুন চক্রবর্তীর অভিযোগ, সম্প্রতি একটি নিউজ চ্যানেলের আলোচনায় কুণাল ঘোষ তাঁর সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন। গত ২৫ জুলাই এবং তারপর আরও একটি অনুষ্ঠানে মিঠুনকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য করা হয় বলে তাঁর আইনজীবীর দাবি। এরপরই গত ১১ অগস্ট কুণাল ঘোষকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। তাতে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ক্ষমা না চাইলে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল নোটিশে।

ক্ষমা চাননি কুণাল, তাই মামলা: মিঠুনের আইনজীবী জানান, ২০ অগস্ট কুণাল ঘোষ নোটিশের প্রাপ্তিস্বীকার করে উত্তর পাঠালেও, ক্ষমা চাননি। তাই ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্টে এই মানহানির মামলা দায়ের করা হয়।

পাল্টা কুণালের হুঁশিয়ারি: এই ঘটনার পর তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষও একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন সমাজমাধ্যমে। সেখানে তিনি বলেন, “শুনলাম মিঠুন চক্রবর্তী নাকি আমার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন, একশো কোটি টাকার। তবে, জানিয়ে রাখি আমিও একটি মামলা করেছি মিঠুন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। আমার আইনজীবী সুস্থ হলে, তা দ্রুত পাঠিয়ে দেওয়া হবে।”

‘দলবদলু’ কটাক্ষ: এরপরই মিঠুন চক্রবর্তীকে ‘দলবদলু’ বলে কটাক্ষ করেন কুণাল। তিনি বলেন, “যাঁর নিজের কোনও দলে মান নেই, যিনি ঘনঘন দলবদল করেন, তিনি নাকি মানহানির মামলা করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “আমি চাইছিলাম মিঠুনদা একটা মামলা করুক। এবার আমিও সমস্ত চিটফান্ডের কাগজ নিয়ে হাজির হব। মোট চারটি চিটফান্ডে ওঁর বেনিফিশিয়ারি।” শেষে কুণাল বলেন, “আমন্ত্রণ যখন করেছেন, মিঠুন চক্রবর্তী এবার আপনার সঙ্গে কোর্টে দেখা হবে।”

এই দুই হেভিওয়েট নেতার আইনি লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছে রাজনৈতিক মহল।