আল কায়দা-ISIS-এর কবলে আফ্রিকা! মালিতে ৫ ভারতীয় কর্মীকে অপহরণ

আফ্রিকার দেশ মালিতে কট্টরপন্থী আল কায়দা (Al-Qaeda) এবং আইএসআইএস (ISIS)-এর মতো জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি মাথা তুলে দাঁড়ানোয় এবার চরম বিপদে ৫ জন ভারতীয় নাগরিক। সংবাদ সংস্থা এএফপি (AFP) সূত্রে খবর, কর্মসূত্রে সেখানে ইলেকট্রিক সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ করা ৫ জন ভারতীয়কে বৃহস্পতিবার পশ্চিম মালির কোবরি অঞ্চল থেকে অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা।

এই অপহরণের খবর জানার পরই মালিতে কর্মরত অন্যান্য ভারতীয়দের নিরাপত্তা বাড়িয়ে দ্রুত রাজধানী বামাকোতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

🇮🇳 কর্মক্ষেত্র থেকে কিডন্যাপ
অপহরণ হওয়া ভারতীয়রা সেখানে ইলেকট্রিফিকেশনের কাজে যুক্ত ছিলেন। ওই সংস্থার একজন সদস্য এএফপিকে জানিয়েছেন:

“৫ জন ভারতীয় কর্মীকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। আর যে সব ভারতীয় এখানে কাজ করতেন, তাঁদের সকলকে দ্রুত রাজধানী বামাকোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”

তবে, এই অপহরণের দায় এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গিগোষ্ঠী বা সন্ত্রাসবাদী সংগঠন স্বীকার করেনি। মালিতে বিদেশি নাগরিকদের অপহরণের ঘটনা আগেও ঘটেছে। ২০১২ সাল থেকে এই দেশটি বারবার অভ্যুত্থান এবং জিহাদি হামলার শিকার হয়েছে, যার ফলে দেশের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত।

⚔️ কেন মালিতে বাড়ছে জেএনআইএম-এর প্রভাব?
মালিতে বর্তমানে সামরিক শাসন চলছে। চরমপন্থীদের হিংসার পর মিলিটারি জুন্টা এই দেশের শাসনভার নিলেও, বর্তমানে আল কায়দার সাহায্যপ্রাপ্ত গোষ্ঠী ‘সাপোর্ট অব ইসলাম অ্যান্ড মুসলিমস’ বা জেএনআইএম (JNIM) সেখানে প্রভাব বিস্তার করছে। এই জঙ্গিগোষ্ঠী নানারকম সমস্যা তৈরি করছে, যার ফলে দেশটি আরও বড় আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

বিদেশী মুখাপেক্ষিতা: মালির জুন্টা নেতা আসিমি গোইটা বিদ্রোহ দমনের অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় এসেছিলেন। কিন্তু তিনি ফ্রান্স এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ছিন্ন করে রাশিয়ার মুখাপেক্ষী হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার ওপর নির্ভরতার ফলেই বিদ্রোহ দমনে বিশেষ সাফল্য আসেনি।

ভয়ঙ্কর নিয়ম: যদিও দেশের রাজধানী বামাকো এখনও সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে, তবে জেএনআইএম রাজধানী অভিমুখী হতে পারে বলে খবর। এই গোষ্ঠী এলাকা দখলের পরই একাধিক কঠোর নিয়ম আরোপ করেছে, যার মধ্যে নারীদের গণপরিবহণে হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করার মতো নির্দেশও রয়েছে।

উল্লেখ্য, এই বছরের সেপ্টেম্বরে জেএনআইএম দুষ্কৃতীরা বামাকোর কাছে দুই আরব নাগরিক এবং একজন ইরানীর অপহরণ করেছিল। প্রায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দেওয়ার পরে গত সপ্তাহে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এই অবস্থায় ৫ জন ভারতীয় নাগরিকের অপহরণ গোটা দেশে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।