‘আল কায়দার সঙ্গে সম্পর্ক অতীত’, ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে মুখ খুললেন আল শারা; পারফিউম বক্স উপহার

সম্পর্কের জটিলতা, নিষেধাজ্ঞা এবং এক সময়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গির তকমা—সবই এখন অতীত। সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আল শারা, যার আসল নাম আবু মহম্মদ আল জুলানি, একদা ছিলেন আল কায়দায় ওসামা বিন লাদেনের ঘনিষ্ঠ। ৭ নভেম্বর তাঁর উপর থেকে রাষ্ট্রপুঞ্জ (UN) সমস্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার পর, তিনি ওয়াশিংটন সফরে যান এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সঙ্গে বৈঠক করেন।

ট্রাম্পের উপহার ও ব্যক্তিগত প্রশ্ন
বুধবার হোয়াইট হাউসে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আল শারাকে একটি পারফিউম বক্স উপহার দেন। শুধু উপহার দিয়েই থেমে থাকেননি মার্কিন রাষ্ট্রপতি। আলোচনার ফাঁকে আল শারাকে তাঁর সটান প্রশ্ন ছিল—“আপনার কতগুলি স্ত্রী?”

ট্রাম্পের এমন ব্যক্তিগত প্রশ্নে কিছুটা থতমত হয়ে গেলেও পরিস্থিতি সামাল দিয়ে আল শারা জবাবে জানান—একটিই। এরপরই হোয়াইট হাউসে হাসির রোল ওঠে। যদিও ট্রাম্প আবার বলে বসেন—”কখন কী হয়, কিছুই তো বলা যায় না।” সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের বুঝতে বাকি ছিল না যে গোটা বিষয়টি তিনি নিছক আড্ডার ছলেই বলেছেন।

‘আল কায়দার সঙ্গে আমার সম্পর্ক অতীত’
হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আল শারা বলেন, “আল কায়দার সঙ্গে আমার সম্পর্ক অতীত। হোয়াইট হাউসের বৈঠকে একবারও সেই প্রসঙ্গ ওঠেনি।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকটি ইতিবাচক হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে বলে আশাবাদী।

কে এই আল শারা?
সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আল শারা, যার মাথার দাম একসময় ১০ মিলিয়ন ডলার ছিল, তাঁর আসল নাম আবু মহম্মদ আল জুলানি। আল কায়দায় তিনি ওসামা বিন লাদেনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। প্রায় দুই দশক আগে তাঁকে আল কায়দার ইরাকি শাখার প্রধান আবু মুসাব আল জারকোয়াইয়ের ডেপুটি করে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের সময় পাঠানো হয়েছিল। পরে তিনিই বাশার সরকারের পতন ঘটিয়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হন।

১৯৪৬ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর এই প্রথম সিরিয়ার কোনো প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসে গেলেন। আল শারা আশা করছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতিতে ফলপ্রসূ হবে।