অবশেষে জল্পনার অবসান। দীর্ঘ টালবাহানা এবং একাধিকবার ইডি-র তলব এড়িয়ে অবশেষে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। শুক্রবার সকাল সোয়া দশটা নাগাদ আচমকাই ইডি দপ্তরে পৌঁছে যান তিনি। উল্লেখ্য, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এর আগে মোট ৫ বার রথীন ঘোষকে নোটিস পাঠিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি), কিন্তু প্রতিবারই কোনো না কোনো অজুহাতে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই রথীন ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। তবে সেই সময় তিনি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে জানিয়েছিলেন যে, নির্বাচনের কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি হাজিরা দিতে পারছেন না। নির্বাচন মিটে যাওয়ার পর ফের তাঁকে তলব করা হলে তিনি নতুন অজুহাত খাড়া করেন। গত নোটিসের জবাবে প্রাক্তন মন্ত্রী ইডি-কে জানান, তিনি বাথরুমে পড়ে গিয়ে পায়ে গুরুতর চোট পেয়েছেন এবং চিকিৎসক তাঁকে টানা ১০ দিনের সম্পূর্ণ ‘বেড রেস্ট’-এর পরামর্শ দিয়েছেন।
কিন্তু শুক্রবার সকালে পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। আশ্চর্যজনকভাবে ইডি আধিকারিকদের আগাম কোনো তথ্য না দিয়েই এদিন সকালেই সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন প্রাক্তন মন্ত্রী। সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম পুরসভায় থাকাকালীন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যাপক অনিয়ম হয়েছিল কি না, সেই বিষয়েই মূলত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান আধিকারিকরা। এর আগে রথীন ঘোষের বাড়িতে দীর্ঘ তল্লাশি অভিযানও চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে যেমন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় একের পর এক হেভিওয়েট নেতা শ্রীঘরে, সেখানে রথীন ঘোষের এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি তদন্তকারীদের মনে যথেষ্ট সন্দেহ তৈরি করেছিল। আজকের এই আকস্মিক হাজিরা কি নিজের ইচ্ছায় নাকি আইনি চাপ মোকাবিলা করতে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বর্তমানে সিজিও কমপ্লেক্সের ভেতরে আধিকারিকরা তাঁর বয়ান রেকর্ড করছেন। এখন দেখার, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী কি আজ সশরীরে বাড়ি ফিরতে পারেন, নাকি তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে তাঁর কপালে অন্য কিছু লেখা আছে।





