ভারতীয় রেলের সম্পত্তি মানেই কি সাধারণের অবাধ বিচরণক্ষেত্র? আজ্ঞে না! সম্প্রতি রেললাইনের ওপর গবাদি পশুর চলে আসা এবং সাধারণ মানুষের বেআইনি অনুপ্রবেশের জেরে বারংবার বিঘ্নিত হচ্ছে ট্রেন পরিষেবা। বন্দে ভারত থেকে শুরু করে রাজধানী এক্সপ্রেস—একাধিক হাই-স্পিড ট্রেনের সামনে গবাদি পশু চলে আসায় ঘটছে প্রাণহানি ও যান্ত্রিক গোলযোগ। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল পূর্ব রেল (Eastern Railway)।
রেললাইনের মালিকানা ও আইনি বিধি: পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রেললাইন এবং তৎসংলগ্ন এলাকা সম্পূর্ণভাবে রেল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব সম্পত্তি। এখানে সাধারণ মানুষের হাঁটাচলা, গবাদি পশু চরানো বা রেললাইন পার হওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। রেলওয়ে আইনের (Railway Act, 1989) ১৪৭ ধারা অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া রেলের জমিতে প্রবেশ করলে ৬ মাস পর্যন্ত জেল অথবা ১০০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডই হতে পারে।
গবাদি পশু নিয়ে কড়া সতর্কতা: রেল লাইনের আশেপাশে যারা গবাদি পশু পালন করেন, তাদের উদ্দেশ্যে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রেল জানিয়েছে, লাইনের ওপর পশু চলে আসার ফলে কেবল পশুর মৃত্যু হচ্ছে না, ট্রেনের গতি ব্যাহত হচ্ছে এবং কয়েক হাজার যাত্রীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। যদি কোনো মালিকের অবহেলার কারণে পশু লাইনে চলে আসে, তবে সেই মালিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।
দুর্ঘটনা রুখতে বিশেষ নজরদারি: পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক জানিয়েছেন, আরপিএফ (RPF) কর্মীরা এখন থেকে নিয়মিত টহল দেবেন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে রেললাইনের ধারে বেড়া নেই, সেখানে ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হতে পারে। ট্রেনের ধাক্কায় ট্রেনের সামনের অংশ (Nose cone) ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার মেরামতির খরচও সংশ্লিষ্ট পশুর মালিকের থেকে আদায় করার আইনি দিকটি খতিয়ে দেখছে রেল।
রেল কর্তৃপক্ষের আবেদন, “রেললাইন কোনো খেলার মাঠ বা চারণভূমি নয়। এটি একটি সংরক্ষিত এলাকা।” সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং এবং লিফলেট বিলির কাজও শুরু হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে এবার আর কোনো অনুরোধ নয়, সরাসরি আইনি পদক্ষেপই হবে শেষ কথা।