আর চলবে না কারচুপি? বাংলায় প্রথম দফার ভোটের আগে ‘ওয়ান ইলেকশন ফোর্স’-এর হুকুম জারি!

অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে এবার আর কোনো খামতি রাখতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের আগেই রাজ্যজুড়ে রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল, কিন্তু এবার নিরাপত্তা বলয়কে আরও নিশ্ছিদ্র ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কলকাতায় আয়োজিত হলো এক মেগা বৈঠক।

কলকাতায় ৫ বাহিনীর ‘মহা-মিলন’

শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে সল্টলেকের CRPF সেন্টারে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এক টেবিলে বসেন দেশের তাবড় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রধানরা। উপস্থিত ছিলেন:

  • সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (CRPF)

  • বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF)

  • সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (CISF)

  • সশস্ত্র সীমা বল (SSB)

  • ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশ (ITBP)

বৈঠকের মূল সুর বেঁধে দিয়েছিলেন সালভ মাথুর। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের শীর্ষ কর্তারা এবং নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পুলিশ উপদেষ্টাও।

কী এই ‘ইন্টিগ্রেটেড সিকিউরিটি গ্রিড’?

ভোটের ময়দানে বিশৃঙ্খলা রুখতে এবার আনা হচ্ছে ‘ইন্টিগ্রেটেড সিকিউরিটি গ্রিড’। বৈঠকে কুইক রেসপন্স টিম (QRT) এবং অ্যান্টি-সাবোটাজ চেকিংয়ের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়। লক্ষ্য একটাই—যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দেখা দিলে কয়েক মিনিটের মধ্যে অ্যাকশন নেওয়া।

“আমাদের একক বাহিনী হিসেবে নয়, বরং ‘ওয়ান ইলেকশন ফোর্স’ হিসেবে কাজ করতে হবে।” — প্রবীর রঞ্জন, সিআইএসএফ প্রধান।

২৩ এপ্রিলের চূড়ান্ত ব্লু-প্রিন্ট

আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৫২টি কেন্দ্রে প্রথম দফার ভোট। তার আগে মাঠে থাকা হাজার হাজার জওয়ানের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে ‘লিডারশিপ বাই এক্সাম্পল’ ফর্মুলায় জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এসি ঘরে বসে নয়, বরং সরাসরি বুথে বুথে গিয়ে নেতৃত্ব দেবেন। সংবেদনশীল বুথগুলোতে কড়া নজরদারির পাশাপাশি প্রতিটি কর্মীর হাতে থাকছে ‘ইলেকশন ডিউটি হ্যান্ডবুক’।

সম্পাদকের নোট: এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের পর স্পষ্ট যে, ভোটারদের ভয়মুক্ত করতে এবং বুথ দখল রুখতে কোমর বেঁধে নামছে প্রশাসন। এখন দেখার, ২৩ এপ্রিলের ময়দানে এই ‘কঠিন দাওয়াই’ কতটা কার্যকরী হয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy