আর কালক্ষেপ নয়! ১০ বিদ্রোহী বিধায়কের ভাগ্য নির্ধারণে স্পিকারকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট

বিদ্রোহী ১০ তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে আনীত দলত্যাগ বিরোধী বা অযোগ্যতার মামলার নিষ্পত্তিতে রাজ্য বিধানসভার স্পিকারকে কড়া বার্তা দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যে তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে স্পিকার সম্পূর্ণভাবে অবগত রয়েছেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তিনি উপযুক্ত পদক্ষেপ করবেন বলে শীর্ষ আদালত পূর্ণ আস্থা রাখছে।
উল্লেখ্য, তৃণমূল সরকারের পক্ষে প্রবীণ মন্ত্রী তথা বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, দলবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও ১০ জন বিদ্রোহী বিধায়কের বিরুদ্ধে অযোগ্যতার আবেদন দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। সেই মামলার শুনানিতেই এদিন সুপ্রিম কোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। আদালতের তরফ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, ইতিপূর্বে নির্ধারিত তিন মাসের সেই সময়সীমা আগামী ১০ অক্টোবর শেষ হতে চলেছে। ফলে ওই নির্দিষ্ট ডেডলাইনের মধ্যেই স্পিকারকে আইনসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আদালতের এই রায় আসার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। মামলাকারী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই ঐতিহাসিক রায়কে স্বাগত জানিয়ে জানিয়েছেন যে, এবার সম্পূর্ণ বিষয়টি স্পিকারের বিচারাধীন এবং তাঁকেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যদিকে, এই আইনি লড়াইয়ের অপরপক্ষ তথা ঋতব্রত-পন্থী বিধায়ক বিপ্লব মিত্রের শিবির জানিয়েছে যে, তাঁরা এখনও আদালতের রায়ের মূল কপি হাতে পাননি। অফিশিয়াল কপি হাতে পাওয়ার পরই এই বিষয়ে দলগতভাবে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে সব মিলিয়ে এই মামলার জেরে রাজ্য রাজনীতির পারদ যে ফের চড়তে শুরু করেছে, তা বলাই বাহুল্য।