পুজোর আগেই বড় বিপদের আশঙ্কা! বেহাল রাস্তায় চরম ভোগান্তি, ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা

দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যাওয়ায় গোটা বাংলা যখন উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই এক চরম উদ্বেগের ছবি ধরা পড়েছে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে। পৌরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত এলআইসি টাউনশিপের রাস্তার বেহাল দশার কারণে উৎসবের আনন্দ মাটি হওয়ার উপক্রম হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল হয়ে পড়ে থাকা এই রাস্তাগুলির সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ। বাসিন্দাদের প্রধান অভিযোগ, রাস্তার বিভিন্ন অংশে বড় বড় খানাখন্দ ও গর্ত তৈরি হয়েছে। তার ওপর বর্ষার জল জমে থাকায় গর্তগুলির গভীরতা বোঝার কোনো উপায় থাকে না, যার ফলে বাইক, টোটো এবং ছোট গাড়ি চালকরা মারাত্মক বিপদের মুখোমুখি হচ্ছেন।
সামান্য অসতর্ক হলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, গত এক বছর ধরে রাস্তাগুলির এই করুণ দশা চললেও মেরামতির কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষাকালে জল জমে থাকার ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। প্রতিদিন এখানে ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। সবচেয়ে বড় বিপদের বিষয় হলো, এই বেহাল রাস্তার কারণে এলাকায় জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের নিয়ে যাতায়াতকারী অ্যাম্বুল্যান্সগুলিও চরম সমস্যায় পড়ছে। প্রবীণ নাগরিক, স্কুলপড়ুয়া থেকে শুরু করে প্রতিদিন কাজে বেরোনো হাজার হাজার সাধারণ মানুষ এই রাস্তাটির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
রাস্তার পাশাপাশি নিকাশি ব্যবস্থার চরম অবনতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিকাশি নালা তৈরির জন্য সরকারি প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ হলেও আজ পর্যন্ত তার কাজ শেষ হয়নি। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জল দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারে না এবং দীর্ঘক্ষণ জল জমে থাকায় রাস্তাগুলি আরও দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ইতিমধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, পুজোর ভিড় বাড়ার আগেই যেন এই রাস্তাগুলি দ্রুত সংস্কার করা হয়।
অন্যদিকে, এই বিষয়ে মধ্যমগ্রাম পৌরসভার পৌরপ্রধান নিমাই ঘোষ জানিয়েছেন যে, রাস্তা সংস্কারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই জমা দেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনের অনুমোদন মিললেই দ্রুত কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি, নিকাশি নালা প্রসঙ্গে তিনি জানান যে সরকারি তহবিলের একটি নির্দিষ্ট দফার টাকা এখনও এসে পৌঁছায়নি, সেই অর্থ হাতে এলেই নিকাশির কাজ শুরু হবে। এখন দেখার বিষয়, উৎসবের কদিন আগে এলআইসি টাউনশিপের এই বেহাল রাস্তার চেহারায় আদৌ কোনো পরিবর্তন আসে কি না।