“আর কতদিন প্রাণের ঝুঁকি?”-হায়দরাবাদগামী বিমান ফিরল মাঝ আকাশ থেকে, যাত্রী নিরাপত্তায় প্রশ্ন!

বোয়িং ড্রিমলাইনার বিমানের কপালে কি কোনো অশুভ ছায়া পড়েছে? এই প্রশ্নই এখন বারবার উঠছে যখন একের পর এক যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনা এই অত্যাধুনিক বিমানের সুরক্ষা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করছে। সাম্প্রতিকতম ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার, যখন জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে হায়দরাবাদের উদ্দেশে রওনা দেওয়া লুফথান্সা সংস্থার বোয়িং ড্রিমলাইনার 787-9 (ফ্লাইট LH764) মাঝ আকাশ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হলো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে।

আকাশেই আটকে গেল স্বপ্ন, জরুরি প্রত্যাবর্তন ফ্রাঙ্কফুর্টে
ঘটনাটি ঘটে রবিবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিট নাগাদ। ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দর থেকে হায়দরাবাদের উদ্দেশ্যে উড়াল দিয়েছিল লুফথান্সার ড্রিমলাইনার বিমানটি। সোমবার ভোর ৬টায় হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এর অবতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু যাত্রীদের সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর পূরণ হলো না। উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানের অভ্যন্তরে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। কোনও রকম ঝুঁকি না নিয়ে, যাত্রীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে পাইলটরা বিমানটিকে ঘুরিয়ে ফ্রাঙ্কফুর্টেই ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC) ইউনিটে এই বিষয়ে একটি জরুরি বার্তা আসে। জানানো হয়, জার্মানি থেকে টেক-অফ করার পরেও ড্রিমলাইনার ফ্লাইটটিকে ফের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। Flightaware.com ওয়েবসাইটেও এই তথ্য নিশ্চিত হয়েছে, যেখানে বিমানের গতিপথের পরিবর্তন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

প্রশ্ন চিহ্নের মুখে বোয়িং ড্রিমলাইনার: “প্রাণের ছিনিমিনি খেলা বন্ধ হোক!”
বোয়িং ড্রিমলাইনারের ক্ষেত্রে এই ধরনের যান্ত্রিক গোলযোগের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও এই মডেলের বিমান নিয়ে একাধিক সমস্যার খবর প্রকাশ্যে এসেছে, যা বিশ্বজুড়ে যাত্রী এবং বিমান বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যাত্রীরা এখন ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন। তাঁদের একটাই প্রশ্ন, “বারবার যান্ত্রিক গলদ থাকা সত্ত্বেও কেন বোয়িং ড্রিমলাইনারের এয়ারক্র্যাফ্ট এখনও ব্যবহার করা হচ্ছে? কেন যাত্রীদের জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে?”

অনেকেই বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের অতীতের দুর্ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, যখন একের পর এক দুর্ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে তার উড়ান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ড্রিমলাইনারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ধারাবাহিক সমস্যা দেখা যাচ্ছে, যা বিমানের ডিজাইন, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়
এই ঘটনা লুফথান্সা এবং বোয়িং, উভয় সংস্থার জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যাত্রী নিরাপত্তা যেকোনো বিমান সংস্থার কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। বারবার একই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে, বোয়িং ড্রিমলাইনারের অন্তর্নিহিত ত্রুটিগুলি আরও গুরুতরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন এবং তার দ্রুত সমাধান করা উচিত। যতক্ষণ না এই ত্রুটিগুলি সম্পূর্ণভাবে দূর করা হচ্ছে এবং যাত্রীদের মনে নিরাপত্তা নিয়ে আস্থা ফিরে আসছে, ততক্ষণ ড্রিমলাইনারের এই ‘অভিশপ্ত যাত্রা’ নিয়ে সংশয় থেকেই যাবে। এই ঘটনা বিমান সংস্থা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির জন্য যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়টি আরও একবার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার আহ্বান জানাচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy