“আরজি করে ময়নাতদন্ত নয়!” টালা থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই ফের রণক্ষেত্র নামী সরকারি হাসপাতাল!

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ভুল চিকিৎসার জেরে শিশুমৃত্যুর অত্যন্ত গুরুতর ও বিস্ফোরক অভিযোগ উঠল তিলোত্তমার অন্যতম প্রধান সরকারি হাসপাতাল আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া মাত্র ৩৮ দিনের এক শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফের একবার তুমুল উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল আরজি কর হাসপাতাল চত্বরে। চিকিৎসায় চরম গাফিলতির কারণেই তাঁদের কোল খালি হয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন মৃত শিশুর ক্ষুব্ধ পরিবার।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ অক্টোবর নিউমোনিয়ার মারাত্মক সংক্রমণ নিয়ে ৩৮ দিনের ওই শিশুকন্যাকে আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরিবারের সুনির্দিষ্ট দাবি, চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সমস্ত শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট সঠিক ও স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও ভুল চিকিৎসার বলি হতে হয়েছে নিষ্পাপ শিশুটিকে। বুধবার সকালে চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিজনেরা এবং হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

ঘটনার পরপরই আরজি কর কর্তৃপক্ষের চিকিৎসায় চরম অনাস্থা প্রকাশ করে টালা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে মৃত শিশুর পরিবার। শুধু তাই নয়, আরজি কর হাসপাতালের স্বজনপোষণের আশঙ্কায় সেখান থেকে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত না করিয়ে অন্য কোনো শীর্ষ সরকারি মেডিক্যাল কলেজে নিরপেক্ষ পোস্টমর্টেম করানোর জন্য লিখিত দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবারেও হাসপাতাল চত্বরে থমথমে পরিস্থিতি ও তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করে।

অন্যদিকে, এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রসঙ্গে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানান, “অভিযোগ জমা পড়লে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। চিকিৎসায় কোনো প্রাথমিক গাফিলতি ছিল কি না, তা জানতে পরিবারের উচিত ময়নাতদন্তে সম্মতি দেওয়া।” তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক দাবি, একাধিক জটিল শারীরিক সমস্যা নিয়েই শিশুটি ভর্তি হয়েছিল। উল্লেখ্য, মাত্র কয়েকদিন আগেই কলকাতা মেডিক্যালেও ভুল ইনজেকশন দেওয়ার অভিযোগে ১১ বছরের এক বালকের মৃত্যুর খবর ঘিরে তোলপাড় হয়েছিল, যদিও পরবর্তী তদন্তে তা এনটেরাইটিস বা ক্ষুদ্রান্ত্রে ছিদ্রের কারণে মৃত্যু বলে প্রমাণিত হয়।