পিরিয়ডের মারাত্মক যন্ত্রণা আর ওষুধে নয়! রান্নাঘরের এই জাদুকরী খাবারে মিলবে নিমেষে মুক্তি!

পিরিয়ডের সময় হওয়া তীব্র ব্যথা এবং পেশির খিঁচুনি থেকে মুক্তি পেতে নারীরা ও কিশোরীরা প্রায়শই মুঠো মুঠো ব্যথানাশক ওষুধের আশ্রয় নেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ সেবন শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। অথচ অনেকেই জানেন না যে, প্রতিদিনের খাবার পাতে থাকা অত্যন্ত সাধারণ কিছু ‘সুপারফুড’ ও প্রাকৃতিক উপাদানই এই পিরিয়ড ক্র্যাম্প এবং শারীরিক অস্বস্তি নিমেষেই দূর করতে পারে। ঋতুস্রাবকালীন এই যন্ত্রণাদায়ক দিনগুলোকে স্বস্তিদায়ক করে তুলতে কোন কোন খাবার জাদুর মতো কাজ করে, তা জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
প্রথমত, কলা পিরিয়ডের সময়ের জন্য একটি আদর্শ ফল। এতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকায় এটি পেশির টান কমাতে এবং পেট ফাঁপা বা ফোলা ভাব (Bloating) থেকে দ্রুত স্বস্তি দিতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, কলায় থাকা ভিটামিন বি-৬ শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং বারবার মেজাজ পরিবর্তনের সমস্যা (Mood Swings) কমাতে দারুণ কার্যকরী। দ্বিতীয়ত, তরমুজও এই সময়ে অত্যন্ত উপকারী। ঋতুস্রাবের সময় শরীরে জলের অভাবের কারণে অনেক সময় পেট ফুলে যায়। তরমুজে প্রচুর পরিমাণে জল ও ইলেক্ট্রোলাইট থাকায় তা শরীরের জলের ঘাটতি মেটানোর পাশাপাশি তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়।
তৃতীয়ত, বাদাম ও বীজ খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। কাঠবাদাম, আখরোট এবং কুমড়োর বীজে ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন ই-এর মতো পুষ্টি উপাদান ভরপুর থাকে, যা পেটের অস্বস্তি ও ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে। চতুর্থত, কমলালেবু ও পাতিলেবুর মতো লেবুজাতীয় ফল শরীরে আয়রন শোষণের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকায় শরীর আর্দ্র থাকে এবং তলপেটের খিঁচুনি কমে। পঞ্চমত, সবুজ শাকসবজি যেমন পালং শাক বা অন্যান্য শাক খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। এগুলিতে উপস্থিত আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম ঋতুস্রাবের সময় শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া রক্তের ঘাটতি পূরণ করে এবং পেশির খিঁচুনি রোধ করে।
এছাড়াও, রান্নাঘরের দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী উপাদান হলো আদা ও হলুদ। আয়ুর্বেদে আাদাকে প্রাকৃতিক ব্যথানাশক বলা হয়, কারণ এর মধ্যে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও প্রদাহরোধী (Anti-inflammatory) উপাদান পিরিয়ডের ব্যথা, বমি ভাব ও পেশির আড়ষ্টতা দূর করতে সাহায্য করে। আদা চা বা ভেষজ কাড়া হিসেবে এটি খাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, হলুদে উপস্থিত ‘কারকিউমিন’ (Curcumin) শরীরের প্রদাহ ও ব্যথা কমায়। রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস দুধে সামান্য হলুদ মিশিয়ে পান করলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়। সুতরাং, ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভর না করে প্রাকৃতিক উপায়ে পিরিয়ডের কষ্ট কমাতে এই সুপারফুডগুলিকে আজই ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করুন।