বাংলাদেশে ফের চড়ছে ভারত-বিরোধী পারদ! ঘেরাওয়ের ডাক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন!

শেখ হাসিনার পতনের পর পালাবদল ঘটলেও বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটেনি। এবার বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া দাম এবং তীব্র জ্বালানি সঙ্কটের জেরে সরাসরি তারেক রহমান সরকারের বিরুদ্ধে পথে নামল ন্যাশনাল সিটিজ়েন পার্টি (এনসিপি)। শুধু অভ্যন্তরীণ ক্ষোভই নয়, এই বিক্ষোভের মঞ্চ থেকে ফের চড়া সুরে ভারত-বিরোধী স্লোগান ওঠায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক মহলে।
মন্ত্রীদের পদত্যাগের দাবি ও বাসভবন ঘেরাওয়ের হুংকার
দেশের অর্থনৈতিক সঙ্কট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির জেরে সোচ্চার হয়েছে এনসিপি। দলের পক্ষ থেকে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ইস্তফা দাবি করা হয়েছে। দাবি না মানলে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলনের পাশাপাশি খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাসভবন ঘেরাওয়ের আলটিমেটাম দিয়েছেন এনসিপি নেতারা।
দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তাঁকে ‘নতুন স্বৈরাচার’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর থেকেই বিএনপি সরকার দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং হিংসার রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে।
জ্বালানি সঙ্কট ও মূল্যবৃদ্ধিতে ধুঁকছে বাংলাদেশ
বর্তমানে তীব্র জ্বালানি সঙ্কটের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের জেরে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। দেশের প্রয়োজনীয় তেলের ৯০ শতাংশ এবং প্রায় ৩০ শতাংশ গ্যাস বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার সরাসরি কোপ পড়েছে বাংলাদেশের ওপর। এর জেরে দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত অর্থাৎ পোশাক শিল্পেও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বিশ্বব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মূল্যবৃদ্ধির হার ছুঁয়েছে প্রায় ৮.৫ শতাংশ। সংস্থার রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে যে, গত বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লক্ষ মানুষ নতুন করে দারিদ্রসীমার নিচে চলে গিয়েছেন।
এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নিয়ে প্রশ্ন ও ভারত-বিরোধী স্লোগান
বিক্ষোভের সময় এলপিজি (LPG) গ্যাসের দামের ফারাক নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এনসিপি সাংসদ আখতার হোসেন। তাঁর অভিযোগ, ভারতে তথা কলকাতায় যেখানে একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম প্রায় ১,০০০ টাকা, সেখানে বাংলাদেশে তার দাম তার দ্বিগুণেরও বেশি। এই বিপুল মূল্যের পার্থক্যের কারণ নিয়ে জ্বালানিমন্ত্রীর কাছে কৈফিয়ত তলব করেছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, শুক্রবারের এই বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে জ্বালানি সঙ্কট এবং মন্ত্রীদের জবাবদিহি থাকলেও, সেই মঞ্চ থেকে ভারত-বিরোধী স্লোগান ওঠার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অর্থনৈতিক অসন্তোষের সঙ্গে প্রতিবেশী-বিরোধী রাজনৈতিক স্লোগান মিশে যাওয়ায় ঢাকা-দিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর এর কী প্রভাব পড়ে, এখন সেটাই দেখার। সব মিলিয়ে, জনরোষ সামলানো এবং ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা—এই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এখন তারেক সরকার।