“পরীক্ষায় নকলের মারাত্মক ফন্দি!”-পরীক্ষা দিতে এসে যেভাবে ধরা পড়ল ছাত্র, দেখুন কাণ্ড!

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নকল করতে নিত্যনতুন ও অদ্ভুত ফন্দি আঁটেন একাংশ পরীক্ষার্থী। তবে উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে যা ঘটল, তা অতীতের সমস্ত নজিরকে ছাড়িয়ে গেছে। পরীক্ষার হলে গোপন ডিভাইস ঢুকিয়ে নকল করার যে অভিনব কৌশল এক পুরুষ পরীক্ষার্থী নিয়েছিলেন, তা দেখে তাজ্জব বনে গেছেন খোদ পুলিশ আধিকারিকরাও।

ঠিক কী ঘটেছিল পরীক্ষার হলে?

শুক্রবার উত্তরপ্রদেশে পিইটি (PET) বা প্রিলিমিনারি এলিজিবিলিটি টেস্টের দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা চলছিল। ঝাঁসির নওয়াবাদ থানা এলাকার একটি কলেজে পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল। বিকেল ৩টে থেকে ৫টা পর্যন্ত চলা ওই পরীক্ষার সময় হঠাৎই এক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে অস্বাভাবিক ‘বিপ’ (Beep) শব্দ শুনতে পান কর্তব্যরত ইনভিজিলেটর।

শব্দটি কোথা থেকে আসছে তা নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে ওই পরীক্ষার্থীকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি চালানো হয়। আর তাতেই বেরিয়ে আসে আসল সত্য।

স্যানিটারি প্যাডে লুকিয়ে ডিভাইস!

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ওই পরীক্ষার্থীর নাম আকাশ প্যাটেল, বাড়ি প্রয়াগরাজে। তিনি পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও অত্যন্ত সুকৌশলে একটি স্যানিটারি প্যাডের ভিতরে ইলেকট্রনিক ডিভাইসটি লুকিয়ে তা নিজের অন্তর্বাসের মধ্যে রেখে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করেছিলেন। পরীক্ষার সময় ওই ডিভাইসের মাধ্যমেই বাইরে থেকে কেউ তাঁকে সাহায্য করছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে।

খবর পেয়ে দ্রুত পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা। অভিযুক্তের কাছ থেকে ডিভাইসটি এবং অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

তদন্তে পুলিশ

ঝাঁসির এসপি সিটি প্রীতি সিং জানিয়েছেন, ধৃতের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনি ধারায় মামলা রুজু করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুরুষ হয়েও কীভাবে তিনি স্যানিটারি প্যাডের আড়ালে ওই ডিভাইস নিয়ে তল্লাশি এড়িয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকে পড়লেন এবং এই জালিয়াতি চক্রের নেপথ্যে অন্য কারও হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আকস্মিক এই ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে শিক্ষা মহলে।