আমেরিকা ছাড়াই ৩০ দেশের মেগা বৈঠক! হরমুজ ইস্যুতে ভারতকে ডাক ব্রিটেনের!

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) এখন কার্যত অবরুদ্ধ। এই আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজের জট কাটাতে এবং উত্তেজনা প্রশমনে এবার বড়সড় কূটনৈতিক চাল চালল ব্রিটেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মারের উদ্যোগে আয়োজিত হতে চলেছে এক মেগা ভার্চুয়াল বৈঠক। ইউকে ফরেন সেক্রেটারি ইভেট কুপারের সভাপতিত্বে এই হাই-প্রোফাইল আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ভারতকেও।

৩০ দেশের মেগা বৈঠক, ব্রাত্য আমেরিকা? ব্রিটেন জানিয়েছে, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান ও কানাডা-সহ বিশ্বের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি প্রভাবশালী দেশ এই ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেবে। লক্ষ্য একটাই— কূটনৈতিক উপায়ে হরমুজে ‘ফ্রিডম অফ নেভিগেশন’ বা স্বাধীনভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করা। তবে সবচেয়ে বড় চমক হলো, এই বিশাল আয়োজন থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র!

লন্ডন-ওয়াশিংটন সম্পর্কে কি ফাটল? ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর হামলার প্রশ্নে ব্রিটেন সরাসরি আমেরিকার পাশে না দাঁড়ানোতেই দুই দেশের সম্পর্কে শৈত্য দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর ব্রিটেনের বিদেশনীতিতে যে বদল এসেছে, তা ওয়াশিংটনের জন্য খুব একটা সুখকর হয়নি। ফলে হরমুজ সংকটে ব্রিটেনের এই একক নেতৃত্বকে আমেরিকা ভালোভাবে নিচ্ছে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

ভারতের গুরুত্ব কেন বাড়ছে? ভারতকে এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের সিংহভাগ অপরিশোধিত তেল আমদানি হয়। তাই এই জলপথ নিরাপদ রাখা দিল্লির জন্য জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক থাকায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মোদী সরকারের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

কেন এই উদ্বেগ? হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ হওয়া মানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়া এবং মুদ্রাস্ফীতির চরম সঙ্কেত। ব্রিটেন চাইছে যুদ্ধের বদলে আলোচনার টেবিলেই এই সংকটের সমাধান করতে।

এখন দেখার, আমেরিকার অনুপস্থিতিতে ব্রিটেনের এই ‘মেগা বৈঠক’ কতটা ফলপ্রসূ হয় এবং ভারত সেখানে কী ভূমিকা পালন করে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy