আমেরিকা-ইরান চুক্তি ঘিরে উত্তাল তেহরান! সুপ্রিম লিডারের কড়া বার্তায় কি চুপ হবে কট্টরপন্থীরা?

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক নতুন সমঝোতা চুক্তিটি তেহরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রবল ঢেউ তুলেছে। একদিকে যেমন সরকারি স্তরে আলোচনার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে দেশটির কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছে। এই অস্থির পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছেন ইরানের সুপ্রিম লিডার মুজতবা খামেনি।
সম্প্রতি মুজতবা খামেনির নামে জারি করা একটি বিশেষ বার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এমন কোনো পদক্ষেপ বা মন্তব্য যা জনগণের মধ্যে হতাশা ও অবিশ্বাসের জন্ম দেয়, তা পরোক্ষভাবে দেশের শত্রুদেরই সাহায্য করে। এই বিবৃতিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মূলত সমঝোতার বিরোধী কট্টরপন্থী নেতা ও প্রভাবশালী সংগঠনগুলোর জন্য একটি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখছেন। সুপ্রিম লিডারের এই বার্তার পরই সুর নরম করতে বাধ্য হয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার নেতৃত্বে থাকা মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তারা দুজনেই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ মেনে আলোচনার প্রক্রিয়াকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
তবে পর্দার আড়ালে বিরোধিতা এখনো পুরোপুরি থামেনি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের প্রভাবশালী কট্টরপন্থী মিডিয়া, ধর্মীয় নেতা এবং কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই চুক্তির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ‘কায়হান’ পত্রিকার সম্পাদক হোসেন শরীয়ত মাদারি এবং সংসদ সদস্য ইসমাইল কোসারি। ‘খবর অনলাইন’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এই বিরোধিতা কেবল মত প্রকাশের স্বাধীনতা নয়, বরং চুক্তির সফলতাকে নস্যাৎ করার একটি সুপরিকল্পিত প্রয়াস। বিশেষ করে সরকারি টিভি চ্যানেল IRIB-কে এই সমঝোতার সবচেয়ে বড় বিরোধী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
IRIB চ্যানেলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একাধিক আলেম মার্কিন-ইরান আলোচনার কড়া সমালোচনা করেছেন। মৌলবী গোলামরেজা গাসেমিয়ান সরাসরি মন্তব্য করেছেন যে, আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করা ‘হারাম’। একই সুরে কথা বলেছেন শেখ ইসমাইল রমজানি, যিনি দাবি করেছেন যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক স্থাপন ইরানের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। এই বিরোধিতায় সামনের সারিতে রয়েছে কট্টরপন্থী ‘পায়দারি পার্টি’। দলটির সঙ্গে যুক্ত সাংসদ ও মিডিয়া হাউসগুলো প্রতিনিয়ত সরকারের আলোচক দলের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
যদিও সুপ্রিম লিডারের হস্তক্ষেপের পর বিরোধীদের কণ্ঠস্বর আপাতত কিছুটা স্তিমিত মনে হচ্ছে, তবে গালিবাফ কট্টরপন্থীদের সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের অবাধ্য হলে তাদের জনগণের রোষের মুখে পড়তে হবে। আপাতদৃষ্টিতে পরিস্থিতি শান্ত মনে হলেও, আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের এই দীর্ঘমেয়াদী ইস্যুতে ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে যে গভীর ফাটল রয়েছে, তা এই ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে এই অভ্যন্তরীণ বিরোধ তেহরানের মার্কিন নীতিকে কতটা প্রভাবিত করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।