ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের আমেরিকা সফর ঘিরে এখন টানটান উত্তেজনা। তবে এই উত্তেজনার কারণ যতটা না কূটনৈতিক, তার চেয়ে অনেক বেশি নিরাপত্তাজনিত। সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার নিরাপত্তার ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে পারছে না ব্রিটিশ রাজপরিবার এবং সরকার। ফলে রাজার সুরক্ষায় লন্ডন থেকে অতিরিক্ত সেনা ও বিশেষ নিরাপত্তা কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন এই বাড়তি সতর্কতা?
সফর শুরু হওয়ার ঠিক আগেই ওয়াশিংটনে ‘হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনার’ চলাকালীন এক ভয়াবহ গুলির ঘটনা ঘটে। খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতির কাছাকাছি এই ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে বাকিংহাম প্যালেস। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কেবল মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
লন্ডন থেকে পাঠানো হচ্ছে বিশেষ স্কোয়াড
সূত্রের খবর, কিং চার্লস এবং কুইন ক্যামিলার চার দিনের এই ঐতিহাসিক সফরে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না ব্রিটেন।
অতিরিক্ত সেনা: বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্রিটিশ কমান্ডোদের একটি দল লন্ডন থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো হয়েছে।
সমন্বিত কমান্ড: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবং ব্রিটিশ নিরাপত্তা বাহিনী এখন যৌথভাবে কাজ করবে।
কড়া নজরদারি: রাজার কংগ্রেস ভাষণ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের সময় নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হবে গোটা এলাকা।
কূটনৈতিক অস্বস্তি?
আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে রাজার এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিরাপত্তার জন্য আলাদা করে দেশ থেকে সেনা তলব করার ঘটনাটি দুই দেশের ‘স্পেশাল রিলেশনশিপ’-এ সামান্য হলেও অস্বস্তি তৈরি করেছে। ব্রিটেন সরকার অবশ্য জানিয়েছে, এটি কোনো অনাস্থা নয়, বরং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সোমবার থেকেই চার্লস ও ক্যামিলার সফর শুরু হচ্ছে। আমেরিকার মাটিতে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের এই সফর কতটা সুরক্ষিত থাকে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।





