আমেরিকার দাদাগিরি কি শেষের পথে? রাষ্ট্রপুঞ্জে কোণঠাসা ওয়াশিংটন, ইরানের হাতে উঠল বড় ক্ষমতা!

বিশ্বজুড়ে কি তবে আমেরিকার দাদাগিরির অবসান ঘটতে চলেছে? ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN) মঞ্চে যে চিত্র ধরা পড়ল, তাতে সেই জল্পনাই এখন তুঙ্গে। এতদিন যে দেশগুলো আমেরিকার ভয়ে তটস্থ থাকত, তারা এখন সরাসরি ওয়াশিংটনের বিপক্ষে ভোট দিতে শুরু করেছে। পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ সংক্রান্ত চুক্তি বা এনপিটি-র (NPT) বৈঠকে আমেরিকার প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও ইরানকে সহ-সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জে আমেরিকার করুণ আবেদন
নিউ ইয়র্কে আয়োজিত রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি মাইকেল ওয়াটসকে কার্যত অসহায় দেখিয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক স্বাধীনতা বজায় রাখতে তিনি বন্ধু দেশগুলোর কাছে সামরিক ও মানবিক সাহায্যের আকুতি জানান। তাঁর কথাতেই স্পষ্ট যে, ইরানকে সামলানো এখন আর আমেরিকার একার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগ্রাসন বন্ধ না হলে এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান না দেখালে শান্তি অধরাই থাকবে।
১২১ দেশের সমর্থন ও ওয়াশিংটনের ধাক্কা
আমেরিকার জন্য সবচেয়ে বড় অস্বস্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে এনপিটি-র বৈঠক। তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছিল যাতে ইরানকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো না হয়। কিন্তু চীন, রাশিয়ার পাশাপাশি আফ্রিকা, এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলো অর্থাৎ ‘গ্লোবাল সাউথ’ একজোট হয়ে ইরানকে সমর্থন জানায়। ১২১টি দেশের ভোট পেয়ে ইরান সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়। আমেরিকা এই সিদ্ধান্তকে এনপিটি-র বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর আঘাত বলে দাবি করলেও, ইরান পাল্টা মনে করিয়ে দিয়েছে যে, আমেরিকা বিশ্বের একমাত্র দেশ যারা পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করেছে।
বদলে যাওয়া ভূ-রাজনীতি
এই ঘটনাপ্রবাহ কেবল একটি ভোটাভুটি নয়, বরং এটি বিশ্বরাজনীতির ভারসাম্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে একের পর এক ইরানি জাহাজ চলাচল করছে। সামরিক ও কূটনৈতিক— উভয় ক্ষেত্রেই আমেরিকা চ্যালেঞ্জের মুখে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমেরিকা ধীরে ধীরে তার একক আধিপত্য হারাচ্ছে এবং ইরান সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে।