আমেরিকার তোয়াক্কা না করে ট্রাম্পের ফোন কেটে দিলেন জার্মান চ্যান্সেলর! আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে হঠাৎ এত বড় সংঘাত কেন?

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব কূটনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নির্ধারিত ফোনালাপ বাতিল করে দিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ (Friedrich Merz)। ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের ঠিক পরপরই জার্মান চ্যান্সেলরের এই কড়া পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
ঠিক কী নিয়ে শুরু হয়েছে এই বিতর্ক?
সম্প্রতি জার্মানির আঞ্চলিক নির্বাচনে দেশটির উগ্র দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (AfD)-র উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। এই জয়ের পরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করে সেই বিজয়কে একটি ‘বড় রাত’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং দলটির ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি জার্মানির অভিবাসন নীতির তীব্র সমালোচনা করে লেখেন যে সাধারণ মানুষ ‘খুব খারাপ ইমিগ্রেশন আইন’ নিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এমনকি পোস্টের শেষে তিনি ‘MGGA’ বা ‘মেক জার্মানি গ্রেট এগেইন’ স্লোগান ব্যবহার করেন।
ফোন বাতিল নিয়ে মুখে কুলুপ প্রশাসনের
জার্মান চ্যান্সেলরের কার্যালয় বা এএফপি (AFP)-র তথ্য অনুযায়ী, ফ্রেডরিখ মার্জের মুখপাত্র স্পষ্টভাবে এই ফোনালাপ বাতিলের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ না জানালেও নিশ্চিত করেছেন যে শিডিউলে সময় বা ব্যস্ততার অভাবের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যদিও ট্রাম্পের ওই উস্কানিমূলক পোস্ট এবং ফোনালাপ বাতিলের মধ্যে কোনো সরাসরি আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করা হয়নি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই দুইয়ের মধ্যে গভীর যোগসূত্র রয়েছে।
ওয়াশিংটন-বার্লিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব
বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং ইউরোপীয় রাজনীতির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়ে যখন আমেরিকা ও জার্মানির মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময় এই কূটনৈতিক দূরত্ব দুই দেশের সম্পর্কে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জার্মান চ্যান্সেলরের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিল যে, দেশের সার্বভৌম রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বহিরাগত হস্তক্ষেপ বরদাश्त করবে না বার্লিন।