বুমরাহর বেলায় এক আইন, আর হর্ষিত রানার জন্য অন্য নিয়ম! বিসিসিআইয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন প্রাক্তন তারকা!

ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার পর যশপ্রীত বুমরাহকে ফিটনেস প্রমাণের জন্য যেখানে ঘরোয়া ক্রিকেট বা লাল বলের ম্যাচ খেলতে বলা হচ্ছে, ঠিক সেখানেই হর্ষিত রানার ক্ষেত্রে কেন আলাদা মাপকাঠি রাখা হলো— এই প্রশ্ন তুলে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (BCCI)-এর বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগলেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার সদাগোপন রমেশ। সাম্প্রতিক সময়ে হর্ষিত রানার দলভুক্তি নিয়ে এই বিতর্ক এখন ক্রিকেট মহলে বেশ জোরালো চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

হর্ষিত রানার নির্বাচন নিয়ে ক্ষোভ

ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে চোটে পড়েছিলেন তরুণ পেসার হর্ষিত রানা। তবে এখন তিনি পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠছেন এবং আসন্ন আফগানিস্তান সিরিজের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে তাঁকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দল ঘোষণার ঠিক পরেই তাঁর এই অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন ওপেনার সদাগোপন রমেশ। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করে তিনি সরাসরি জানতে চেয়েছেন যে, কেন হর্ষিত রানার জন্য নিয়মের অন্যথা করা হলো?

রমেশ উদাহরণ দিয়ে বলেন, বুমরাহকে টেস্ট দলে ফেরানোর আগে বলা হচ্ছে যে তাঁকে ফিটনেস প্রমাণের জন্য ‘ইন্ডিয়া এ’র হয়ে লাল বলের ম্যাচ খেলতে হবে। এটা একটা সঠিক সিদ্ধান্ত হলেও, হর্ষিত রানার ক্ষেত্রে হাঁটুর অস্ত্রোপচার বা ইনজুরি থেকে ফেরার পর কোনো ধরনের ম্যাচ টেস্ট না করেই সরাসরি জাতীয় দলে জায়গা দিয়ে দেওয়া হলো। তাঁর মতে, স্পষ্টভাবে কিছু বিশেষ খেলোয়াড়ের জন্য নিয়মে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

“সবার জন্য এক নিয়ম হোক”: রমেশ

সদাগোপন রমেশ জোর দিয়ে বলেন যে, দেশের সমস্ত ক্রিকেটারের জন্যই নিয়মের সমতা থাকা উচিত। অথচ যাঁরা অতীতে নিজেদের বারবার প্রমাণ করেছেন, তাঁদের ওপরই সবচেয়ে বেশি কড়াকড়ি ও চাপ সৃষ্টি করা হয়। বুমরাহ কিংবা মোহাম্মদ শামির মতো অভিজ্ঞদের ফিটনেস প্রমাণের জন্য কঠোর পরীক্ষার মুখে পড়তে হলেও হর্ষিত রানার বেলায় বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, এর আগে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার পর হর্ষিত রানার হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট লেগেছিল। পরবর্তী সময়ে ফিটনেস ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর তাঁকে আফগানিস্তান সিরিজের টি-টোয়েন্টি দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রমেশের মূল আপত্তি এখানেই যে, যদি হর্ষিত কোনো ম্যাচ না খেলে সরাসরি স্কোয়াডে ঢুকতে পারেন, তবে বুমরাহের ক্ষেত্রে কেন আলাদা ও কঠিন শর্ত আরোপ করা হচ্ছে? বোর্ডের এই দ্বিমুখী নীতি নিয়েই এখন চলছে তীব্র আলোচনা।