আমেরিকায় ফের ‘ট্রাম্প-তরোয়াল’ ১২ দেশের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, ৭টির উপর কড়া নজর

ফের একবার কঠোর অভিবাসন নীতির পথে হাঁটলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই তিনি ১২টি দেশের নাগরিকদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। এর পাশাপাশি আরও ৭টি দেশের নাগরিকদের জন্য আনা হয়েছে কড়া ভ্রমণ সংক্রান্ত নিয়মাবলী। মার্কিন নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী সোমবার, দুপুর ১২টা (মার্কিন সময়) থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

বুধবার গভীর রাতে এক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে ট্রাম্প জানান, আফগানিস্তান, মায়ানমার, চাদ, কঙ্গো, নিরক্ষীয় গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান এবং ইয়েমেনের নাগরিকদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান এবং ভেনেজুয়েলা থেকে আগত ব্যক্তিদের জন্য কঠোরতর ভিসা নীতি কার্যকর হবে।

প্রেসিডেন্টের ঘোষণা: ‘জাতীয় নিরাপত্তা সবার আগে’

নিজের সিদ্ধান্তে অটল ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাকে অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এর জনগণের জাতীয় নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা আবার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করব, যাকে কেউ কেউ ‘ট্রাম্প ট্রাভেল ব্যান’ বলে অভিহিত করে, যাতে উগ্র ইসলামী সন্ত্রাসীদের দেশে প্রবেশ রোধ করা যায়। এটি এমন একটি পদক্ষেপ যা সুপ্রিম কোর্টও সমর্থন করেছে।”

স্মর্তব্য, গত ২০শে জানুয়ারি ট্রাম্প একটি আদেশ জারি করেছিলেন। সেই আদেশে রাজ্য ও স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ এবং জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালককে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি “শত্রুতাপূর্ণ মনোভাব” সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে আসা মানুষরা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছিল। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর।

২০১৭ সালের স্মৃতি উসকে: ‘ট্রাম্প ট্রাভেল ব্যান’ revisited

এই ঘটনা ২০১৭ সালের ‘ট্রাম্প ট্রাভেল ব্যান’-এর স্মৃতি উসকে দিচ্ছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুতে, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে তিনি একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন যা সাতটি মুসলিম প্রধান দেশ – ইরাক, সিরিয়া, ইরান, সুদান, লিবিয়া, সোমালিয়া এবং ইয়েমেনের নাগরিকদের আমেরিকা ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছিল। সেসময় অসংখ্য যাত্রী হয় বিমানে উঠতে পারেননি, অথবা মার্কিন বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাঁদের আটক করা হয়েছিল। ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পর্যটক, এমনকি পারিবারিক কারণেও যাঁরা আমেরিকা যাচ্ছিলেন, তাঁদেরও এই নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই নতুন নিষেধাজ্ঞা তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আরও একটি দৃষ্টান্ত। যদিও মানবাধিকার সংগঠনগুলি এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল। এখন দেখার বিষয়, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং বিশ্বব্যাপী অভিবাসন নীতির উপর কী প্রভাব পড়ে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy