আমেরিকায় ডাক্তারি প্র্যাক্টিসের সুযোগ পেয়েও ভিসা বাতিল, আত্মঘাতী ডাক্তার

সুদূর আমেরিকায় ডাক্তারি প্র্যাক্টিসের বহু বছরের লালিত স্বপ্ন যখন পূরণ হওয়ার পথে, ঠিক তখনই ভিসা বাতিলের ধাক্কায় সব শেষ। স্বপ্নভঙ্গের তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী হলেন হায়দরাবাদের ৩৮ বছর বয়সী চিকিৎসক ভি রোহিণী। এই ঘটনা আমেরিকার কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ভারতীয় পেশাদারদের প্রতি বৈষম্য নিয়ে আবারও বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
শুক্রবার হায়দরাবাদের পদ্মরাও নগরের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় রোহিণীর নিথর দেহ। সুইসাইড নোটে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন—ভিসা বাতিলের কারণেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন।
৯ বছরের লড়াই শেষে স্বপ্নভঙ্গ
শিক্ষাগত যোগ্যতা: আদতে গুন্টুরের বাসিন্দা রোহিণী ৯ বছর আগে রাশিয়া থেকে এমবিবিএস পাশ করেন।
আমেরিকার স্বপ্ন: রাশিয়া থেকে ফিরে তিনি ইউএসে ডাক্তারি প্র্যাক্টিসের স্বপ্ন নিয়ে দিনরাত কঠিন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
সুযোগ লাভ: সম্প্রতি তিনি পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেয়ে কোয়ালিফাই করেন এবং ইউএসের একটি কলেজে রেসিডেন্সির জন্য আবেদন করে সুযোগও পেয়ে গিয়েছিলেন।
ভিসা বাতিল: কিন্তু তিন মাস আগে তাঁর জে১ ভিসার আবেদন খারিজ হয়ে যায়। সূত্রের খবর, এই সময় তাঁর বিয়ের সম্বন্ধও ভেঙে যায়, যা তাঁর মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে তোলে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রোহিণীর মা ও ভাইয়েরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তাঁরা চলে যাওয়ার পরদিন সকালে রোহিণী দরজা না খোলায় নিরাপত্তারক্ষীর সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে তাঁর পরিবার দরজা ভেঙে দেহ উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন।
মায়ের আক্ষেপ: ‘আমার সন্তানরা যেন আমেরিকা না যায়’
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যখন অভিবাসন আইন এবং ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি চলছে—ঠিক তখনই এই ঘটনা জন্ম দিয়েছে বহু প্রশ্নের। রোহিণীর মা ভিলক্ষ্মী রাজু এই মর্মান্তিক ঘটনায় চরম আক্ষেপ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন:
“আমার ছেলেও ডাক্তার। আমি চাই না আমার সন্তানদের কেউ আমেরিকা যাক। ভারতীয়রা ইউএসের অর্থনীতিতে মোটা অবদান রাখে, তা হলে তাঁদের ভিসা খারিজ কেন?”
তিনি আরও বলেন, “এখন তো আমি বলব, ভারতেই কাজ করা ভালো, আমেরিকায় ভুলেও না।”
আমেরিকায় ডাক্তারি করার স্বপ্ন নিয়ে বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা করা একজন প্রতিভাবান চিকিৎসকের এমন করুণ পরিণতি আন্তর্জাতিক মহলে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।