“আমি প্রাপ্তবয়স্ক, নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেব!” মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে তরুণীর জবানবন্দিতে তোলপাড় সমাজ

আদালত কক্ষের একদিকে দাঁড়িয়ে স্বামী ও বাবা-মা, অন্যপাশে প্রেমিক। মাঝখানে ১৯ বছরের এক তরুণী, যাঁর একটি সিদ্ধান্ত বদলে দিল তাঁর জীবনের পুরো গতিপথ। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের গোয়ালিওর বেঞ্চে দাঁড়িয়ে ওই তরুণী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিনি ২১ বছরের বড় স্বামীর কাছে নয়, বরং নিজের পছন্দের প্রেমিকের সঙ্গেই ঘর বাঁধতে চান।

কী ঘটেছিল আসলে? বছর খানেক আগে ১৯ বছর বয়সী এই তরুণীর বিয়ে হয়েছিল ৪০ বছর বয়সী অবধেশের সঙ্গে। কিন্তু বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই সম্পর্কে ফাটল ধরে। স্বামী অবধেশ আদালতে পিটিশন দাখিল করে অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রীকে ‘অনুজ কুমার’ নামের এক যুবক জোর করে আটকে রেখেছে। আদালতের নির্দেশে পুলিশ তরুণীকে উদ্ধার করে ‘ওয়ান স্টপ সেন্টার’-এ পাঠায়।

আদালতে বিস্ফোরক জবানবন্দি সোমবার বিচারপতি আনন্দ পাঠক ও বিচারপতি পুষ্পেন্দ্র যাদবের বেঞ্চে হাজির করা হলে তরুণী সটান জানান, তিনি কোনো অবৈধ আটকাবস্থায় নেই। বরং স্বেচ্ছায় প্রেমিকের সঙ্গে থাকছেন। তরুণীর কথায়, “আমার স্বামী আমার চেয়ে ২১ বছরের বড়। এই বয়সের ব্যবধানের কারণে আমি প্রচণ্ড মানসিক কষ্টে আছি। আমি ওঁর কাছে ফিরতে চাই না।”

আদালতের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ তরুণীর জেদ দেখে আদালত কাউন্সেলিংয়ের নির্দেশ দিলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। এরপর আদালত জানিয়ে দেয়:

  • একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী কার সঙ্গে থাকবেন, সেই মতামতই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

  • নৈতিকতা ও আইনের বিচার এক নয়—ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে সমাজ বা পরিবার হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

  • এলাহাবাদ হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়কে হাতিয়ার করে আদালত জানায়, প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিতে সহবাস (Live-in) কোনো অপরাধ নয়।

নিরাপত্তায় ‘শৌর্য দিদি’ প্রেমিক অনুজ কুমার আদালতকে আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি তরুণীর সব দায়িত্ব নেবেন। তবে আদালত বিষয়টিকে হালকাভাবে নেয়নি। আগামী ৬ মাস ‘শৌর্য দিদি’ নামক বিশেষ কর্মকর্তারা ওই তরুণীর নিরাপত্তা ও কল্যাণের ওপর নজর রাখবেন।

সামাজিক রীতিনীতি আর বয়সের বেড়াজাল ভেঙে তরুণীর এই সাহসী পদক্ষেপ এখন নেটদুনিয়ায় চর্চার কেন্দ্রে। দাম্পত্যে ‘বয়সের ব্যবধান’ কি সত্যিই বিচ্ছেদের বড় কারণ হতে পারে? উঠছে সেই প্রশ্নও।