আগে থেকেই ছিল প্রশাসনের নোটিশ! তারপরও কেন এড়ানো গেল না এই ভয়াবহ বিপর্যয়?

বুধবার মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর জেলার সানওয়ার থানা এলাকার টেনশন স্কোয়ারে এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। আচমকাই একটি জরাজীর্ণ বাড়ি হুড়মুড় করে ধসে পড়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে চারজন মহিলার মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি, এই ঘটনায় আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় এমওয়াই হাসপাতাল এবং অরবিন্দ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। ঘটনার খবর পেয়েই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সেখানে উপস্থিত হন মধ্যপ্রদেশ সরকারের মন্ত্রী তুলসী শিলাবতও। তিনি নিজে গোটা উদ্ধারকার্য তদারকি করেন এবং শোকস্তব্ধ নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য অতিরিক্ত ২০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া আহতদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরেই জরাজীর্ণ বাড়িটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ধসে পড়া ওই বাড়িটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আগেই পৌরসভার পক্ষ থেকে নোটিশ জারি করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও কেন সময়মতো বাড়িটি খালি করা বা ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা নেওয়া হলো না, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। পুরো ঘটনায় কোনো প্রশাসনিক গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও প্রশাসন। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।