ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) ঘিরে রণক্ষেত্র মালদার কালিয়াচক। সাত বিচারককে ৯ ঘণ্টা রুদ্ধশ্বাস ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় এবার বড় পদক্ষেপ নিল পুলিশ। গ্রেফতার করা হলো মোথাবাড়ি কেন্দ্রের আইএসএফ (ISF) প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলিকে। তাঁর পাশাপাশি আরও ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকল ধৃতকে মালদা জেলা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁদের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
মাঝরাতে নাটকীয় উদ্ধার: কী ঘটেছিল সেদিন? বুধবার সকাল থেকেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে উত্তপ্ত ছিল মোথাবাড়ি ও সুজাপুর। অভিযোগ, বৈধ নথি থাকলেও হাজার হাজার মানুষের নাম বাদ পড়েছে। বিকেল ৪টে নাগাদ কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তিন মহিলা বিচারকসহ সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে কার্যত ‘বন্দি’ করে ফেলে উত্তেজিত জনতা। দীর্ঘ সাড়ে সাত ঘণ্টা ঘেরাও থাকার পর, গভীর রাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।
“আমি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার”, দাবি মৌলানা শাহজাহান আলির গ্রেফতারির পর আদালতে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি। তিনি জানান, “ঘটনার সময় আমি সেখানে ছিলামই না। একটি জলসা থেকে ফিরছিলাম, পথে আমাকে আটক করা হয়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।” আইএসএফ-এর পক্ষ থেকেও বিবৃতি জারি করে শাহজাহানের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের তপ্ত পর্যবেক্ষণ মালদার এই ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ দেশের শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়েছে, “পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি এতটাই মেরুকৃত যে প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর তার প্রভাব পড়ছে।” বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজ্যকে কড়া ভাষায় বিঁধেছে আদালত।
গ্রেফতারির পর বাড়ছে উত্তেজনা শাহজাহান আলিসহ ১৮ জনের গ্রেফতারির পর মালদায় নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়েছে। একদিকে ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ, অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতার গ্রেফতারি—সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে মালদার মাটি এখন তপ্ত আগ্নেয়গিরি।





