লখনউয়ের একটি আবাসনের ন’তলা থেকে তিন বোনের ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনায় উঠে আসছে একের পর এক হাড়হিম করা তথ্য। ১৪, ১৬ এবং ১২ বছর বয়সী তিন বোন গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ৮০ ফুট উপর থেকে ঝাঁপ দেয়। তদন্তে নেমে পুলিশ ওই ফ্ল্যাট থেকে যে তথ্য পেয়েছে, তা দেখে শিউরে উঠছেন মনোবিদরাও। ফ্ল্যাটের দেওয়ালে পেনসিলের হিজিবিজি স্কেচ, বারবার কাটা লাইন আর রোমান হরফে লেখা— “আমি খুব একা, আমার মন ভেঙে গেছে”— জানান দিচ্ছে এক গভীর মানসিক বিপন্নতার।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, তিন বোনই কোরিয়ান টাস্ক-বেসড ‘লাভ গেম’-এ আসক্ত হয়ে পড়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা নিজেদের ‘কোরিয়ান প্রিন্সেস’ বলে পরিচয় দিত এবং মারিয়া, আলিজা ও সিন্ডি নাম ব্যবহার করত। এমনকি তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, মেজ বোন সম্ভবত ‘ডেথ কম্যান্ডার’ বা বসের ভূমিকা পালন করছিল, যে বাকিদের নির্দেশ দিত। মেয়েদের ডায়েরিতে পাওয়া শেষ বার্তা ছিল— “এবার বুঝবে যে গেমগুলো তুমি ছাড়তে বলছিলে, সেগুলো আমার কতটা কাছের ছিল।”
এই ঘটনার পিছনে পারিবারিক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনকেও দায়ী করা হচ্ছে। কিশোরীদের বাবা চেতন কুমার একজন স্টক ট্রেডার, যার বাজারে ২ কোটি টাকার বেশি দেনা রয়েছে। অর্থাভাবে মেয়েদের ফোন বিক্রি করে দেওয়া এবং দীর্ঘ দু’বছর তাদের স্কুল অনিয়মিত হওয়া সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া—সব মিলিয়ে এক অস্থির পরিবেশের ইঙ্গিত মিলেছে। মৃত্যুর ১০ দিন আগে বাবা তাদের অনলাইন অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিলেও, সেই আসক্তি থেকে তারা বেরিয়ে আসতে পারেনি বলেই মনে করা হচ্ছে।