চিকিৎসাশাস্ত্রের মেধাকে কাজে লাগিয়ে স্ত্রীকে খুন, তারপর সেই তথ্য আড়াল করতে অভিনব পন্থায় প্রেমিকার সঙ্গে যোগাযোগ। বেঙ্গালুরুর চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ কৃত্তিকা রেড্ডি হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মহেন্দ্র রেড্ডির বিরুদ্ধে এবার বিস্ফোরক ডিজিটাল প্রমাণ হাতে পেল পুলিশ। গত বছর অক্টোবরে গ্রেফতার হওয়া এই সার্জন খুনের কথা স্বীকার করেছিলেন UPI পেমেন্ট অ্যাপের চ্যাট বক্সে!
খুনের ছক ও পেমেন্ট অ্যাপের ব্যবহার তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত মহেন্দ্র রেড্ডি জানতেন যে হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারে কথা বললে পুলিশ অনায়াসেই তা ধরে ফেলবে। তাই নজরদারি এড়াতে তিনি ইউপিআই (UPI) পেমেন্ট অ্যাপের চ্যাট অপশন ব্যবহার করতেন নার্স প্রেমিকা হরিষ্ঠার সঙ্গে কথা বলার জন্য। ফরেনসিক ল্যাব মহেন্দ্রর ফোন থেকে প্রায় ১০.৩৪ লক্ষ ডিজিটাল ফাইল উদ্ধার করেছে, যা এখন চার্জশিটের মূল ভিত্তি।
চ্যাট বক্সে যা লেখা ছিল (বিস্ফোরক বয়ান): মহেন্দ্র তাঁর প্রেমিকাকে পেমেন্ট অ্যাপে একাধিক বার্তা পাঠান, যা তাঁর অপরাধবোধ ও ষড়যন্ত্রকে স্পষ্ট করে দেয়:
সতর্কবার্তা: “এই বার্তাটি দেখার পর আমাকে কোথাও টেক্সট বা কল করবে না। পুলিশ আমাদের সম্পর্কের কথা জানতে চাইলে বলবে আমরা শুধু বন্ধু।”
স্বীকারোক্তি: “আমার কাছে কোনও প্রমাণ নেই, কিন্তু আমিই কৃত্তিকাকে হত্যা করেছি। আমি জেলে যাব…”
মানসিক যন্ত্রণা: অন্য একটি মেসেজে তিনি লেখেন, “বাকি জীবনটা আমাকে একজন খুনির মতোই বাঁচতে হবে।”
ঘটনার প্রেক্ষাপট ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল কৃত্তিকা রেড্ডি নিজের বাড়িতে রহস্যজনকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বামী মহেন্দ্র তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয়। মহেন্দ্র দাবি করেছিলেন এটি হৃদরোগ বা স্বাভাবিক মৃত্যু। কিন্তু পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় ফরেনসিক পরীক্ষায় জানা যায়, কৃত্তিকাকে অতিরিক্ত মাত্রায় চেতনানাশক (Anesthesia) ইনজেকশন দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
তদন্তে নয়া দিশা পুলিশ জানিয়েছে, মহেন্দ্র তাঁর চিকিৎসা জ্ঞানকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে প্রমাণ লোপাটের সবরকম চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট তাঁকে বাঁচতে দিল না। মুছে ফেলা ডেটা, ফোন-পে চ্যাট এবং হরিষ্ঠার সঙ্গে অন্তরঙ্গ ছবি এখন পুলিশের প্রধান হাতিয়ার।





