নদিয়ার কৃষ্ণনগরে আয়োজিত ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’ থেকে সরাসরি নাগরিকত্ব এবং অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সুর চড়ালেন বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। শুক্রবারের এই জনসভা থেকে তিনি যেমন মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তেমনই হিন্দু উদ্বাস্তুদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেকেও ‘উদ্বাস্তু’ বলে পরিচয় দিয়েছেন।
“মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের ভোট দিতে দেব না” দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার স্পষ্ট জানান, ভারতের নাগরিক— তিনি হিন্দু হোন বা মুসলমান— তাঁদের অধিকার রয়েছে দেশের প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করার। কিন্তু কড়া ভাষায় তিনি বলেন, “ভারতের কেউ যদি ভারতের নাগরিক না হন, তিনি যদি মুসলিম অনুপ্রবেশকারী হন, তবে তাঁর ভোট দেওয়ার কোনও অধিকার নেই। আমরা তাঁদের ভোট দিতে দেব না, প্রয়োজনে বাধা দেব।”
নিজেকে ‘উদ্বাস্তু’ পরিচয় দিয়ে আবেগঘন বার্তা বক্তৃতার এক পর্যায়ে সুকান্ত মজুমদার নিজের ব্যক্তিগত পরিচয় টেনে আনেন। তিনি বলেন, “আর যাঁরা হিন্দু উদ্বাস্তু… আমার মতো…”, এই কথা বলে তিনি উদ্বাস্তুদের সাথে নিজের একাত্মতা প্রকাশ করেন। তৃণমূল কংগ্রেস এই ইস্যুতে হিন্দু উদ্বাস্তুদের ভুল বোঝাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আইন পরিবর্তনের আশ্বাস হিন্দু উদ্বাস্তুদের আশ্বস্ত করে সুকান্ত বলেন, “তৃণমূল আপনাদের অনেক কিছু বোঝাবে, ভয় দেখাবে। কিন্তু আইনটা শুনে নিন, বুঝে নিন। ভারতবর্ষ ইতিমধ্যেই ফরেনার অ্যাক্টে (Foreigner Act) পরিবর্তন করেছে।” তাঁর দাবি, মোদী সরকার হিন্দু উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব সুনিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর এবং ফরেনার অ্যাক্টের পরিবর্তন তাঁদের সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নদিয়ার মতো মতুয়া ও উদ্বাস্তু অধ্যুষিত এলাকায় সুকান্তের এই ‘উদ্বাস্তু’ কার্ড এবং অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া অবস্থান মেরুকরণের রাজনীতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।





