‘আমার সাড়ে তিনটের ফ্লাইট আছে…!’ রানাঘাটের মঞ্চ থেকে হঠাৎ কেন এ কথা বললেন শুভেন্দু অধিকারী?

শারদোৎসবের আনন্দ ও পুজোর মণ্ডপ উদ্বোধনের ব্যস্ততার মাঝেই হঠাৎ রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটের বিমানে সোজা দিল্লি উড়ে যাচ্ছেন বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী। দলীয় সূত্রে খবর, খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে একটি অতীব জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতেই তাঁর এই হঠাৎ দিল্লি যাত্রা। জাতীয় রাজধানী তথা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন রণকৌশল নিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে দিল্লি যাওয়ার ঠিক আগেই মঙ্গলবার রানাঘাটের চারের পল্লীর একটি দুর্গাপুজোর উদ্বোধনী মঞ্চে উপস্থিত হয়ে কড়া রাজনৈতিক বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। রানাঘাটের মঞ্চ থেকে তিনি নিজেই উপস্থিত হাজারো ভক্তকে উদ্দেশ করে জানান, “প্রভু চৈতন্যদেবের পুণ্যভূমি নদিয়ার রানাঘাটে মা দুর্গার অসংখ্য ভক্তকে অভিনন্দন জানাই। একইসঙ্গে আমার সাড়ে তিনটের ফ্লাইট রয়েছে দিল্লির।” এরপরই ইডেন গার্ডেন্সে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে হওয়া দুর্গাপুজোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, মহালয়ার দিন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সঙ্গে নিয়েই কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে দুর্গা পুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়েছিল।

রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার আসার পরে নতুন করে প্রায় ১২,৪০০টি দুর্গাপুজোকে সরকারি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচন করা এবং মানুষের সমস্ত প্রত্যাশা পূরণ করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি বাংলার মহান মনীষী প্রভু চৈতন্যদেব ও স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শকে পাথেয় করে আধ্যাত্মিক উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি। রাজ্যের সমস্ত ঐতিহাসিক স্থানগুলিকে নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ তৈরি করার পরিকল্পনার কথাও জানান এই বিজেপি নেতা।

এদিনের মঞ্চ থেকে দুর্গাপুজোর পাশাপাশি আসন্ন রাস উৎসবের কথাও তাঁর মুখে শোনা যায়। তিনি বলেন, “জেলায় জেলায় দুর্গাপুজো অত্যন্ত শান্তিতে ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। দুর্গাপুজোর পাশাপাশি এরপরে যে রাস উৎসব রয়েছে, তাও যেন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়, তার জন্য আমি মা দুর্গার কাছে শান্তি কামনা করি।” একই সঙ্গে দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে হুংকার ছেড়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমরা যেন সমস্ত রাষ্ট্রবিরোধী ক্ষমতাকে গণতান্ত্রিক উপায়ে পরাজিত করে দেশকে আরও উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, তার জন্য মায়ের কাছে প্রার্থনা করি।” পুজোর মরশুমে এই হাইপ্রোফাইল দিল্লি সফর এবং হেভিওয়েট নেতার এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে এখন থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।